যেভাবে হচ্ছে আলোচিত আট দলের আসন সমঝোতা

by hsnalmahmud@gmail.com

হাসান আল মাহমুদ >>

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে আলোচিত আট দলের আসন সমঝোতা। একসঙ্গে আন্দোলন, দাবি ও রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থাকা এই দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টন ও একক প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে চলছে ধারাবাহিক বৈঠক, পর্যালোচনা ও সমন্বয় কার্যক্রম। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যেমন আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তেমনি বিভিন্ন মহলে সৃষ্টি হয়েছে নানা জল্পনা–কল্পনা ও বিভ্রান্তি।

বিজ্ঞাপন
banner

জোট সংশ্লিষ্ট নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আট দলের উদ্যোগ কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক জোট গঠনের প্রতিযোগিতা নয়। বরং এটি একটি বাস্তবভিত্তিক ও সময়োপযোগী সমঝোতা প্রক্রিয়া, যেখানে পারস্পরিক সম্মান, সাংগঠনিক সক্ষমতা, মাঠপর্যায়ের শক্তি এবং জনসমর্থনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তারা মনে করছেন, অতীতের অভিজ্ঞতা ও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এককভাবে নয়, বরং সমন্বিত কৌশলের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

নেতারা আরও বলছেন, আসন সমঝোতার মূল লক্ষ্য কেবল নির্বাচনী সুবিধা নয়; বরং দেশের রাজনীতিতে একটি গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা। সে লক্ষ্য সামনে রেখেই আট দলের মধ্যে আলাপ–আলোচনা এগোচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি দলের মতামত, অবস্থান ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনো দল নিজেকে বঞ্চিত বা উপেক্ষিত মনে না করে।

এমন প্রেক্ষাপটে আট দলের আসন সমঝোতা কীভাবে হচ্ছে, কোন নীতিমালার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই ও আসন বণ্টন হবে, এবং এর সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব কী হতে পারে—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল ক্রমেই বাড়ছে।

আট দলের লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ৩৬ নিউজকে জানান, ‘যে আসনে যে দল তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী, প্রাধান্য সেই দলই পাচ্ছে। কাউকে বঞ্চিত করার প্রশ্নই নেই।’

তিনি বলেন, ‘এখন ভিন্ন ভিন্ন মিটিং চলছে। এলাকায় এলাকায় জরিপ হচ্ছে, পর্যালোচনা হচ্ছে। প্রত্যেক দলকে নিয়ে আলাদা আলাদাভাবে বসা হচ্ছে। ইনশআল্লাহ, দেশে বড় কোনো ঝামেলা না হলে আগামী ২২ ডিসেম্বর চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে।’

এদিকে আসন সমঝোতা নিয়ে বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের ব্যক্তিগত মিডিয়া সমন্বয়ক মুফতি সালাহুদ্দিন মাসউদ বলেন, অনেকেই আসন সমঝোতা ও জোটের পার্থক্য না বোঝার কারণেই ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘অনেকে মনে করছেন, আসন সমঝোতার কারণে উচ্চকক্ষে (আপার হাউস) আট দলের বড় দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাস্তবে তা নয়। সমঝোতা এমন হতে পারে, যেখানে যে দলের বা প্রার্থীর যে আসনে ভালো ফলের সম্ভাবনা রয়েছে, আট দল মিলে সেখানে তাকে একক প্রার্থী দেবে।’

তার ধারণা অনুযায়ী, তিনশ’ আসনের সবগুলোতেই একক প্রার্থী দেওয়া নাও হতে পারে। কমবেশি আড়াইশ’ আসনে আট দলের একক প্রার্থীর সমঝোতা হতে পারে। আর যেসব আসন বিএনপি অধ্যুষিত, যেখানে আট দলের পক্ষে জয় পাওয়া কঠিন—সেসব আসনে সবাই নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করে ভোট সংগ্রহ করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু উচ্চকক্ষে ভোটের সংখ্যার হার অনুযায়ী আসন বণ্টন হবে, এই কৌশলে আট দলের সবাই উপকৃত হবে। এতে নিম্নকক্ষে ভালো অবস্থান তৈরির পাশাপাশি উচ্চকক্ষেও শক্ত ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব।’

আটদলের লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য ও নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি ঐক্যবদ্ধ ও স্থিতিশীল। আসন সমঝোতা নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। প্রতিটি দল নিজ নিজভাবে হোমওয়ার্ক করছে। মাঠে যাঁরা উঠে আসবেন এবং জাতীয়ভাবে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ—প্রাধান্য তাঁদেরই দেওয়া হবে।’

জোট সূত্র জানায়, যেখানে একাধিক দলের শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছে, সেখানে যৌথ জরিপের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। এক নেতা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য দ্বন্দ্ব নয়, বরং সর্বোচ্চ ঐক্য।’

আসন সমঝোতা নিয়ে কোনো দ্বন্দ্বের আশঙ্কা আছে কি না—এমন প্রশ্নে মাওলানা মুসা বিন ইযহার বলেন, ‘জোটের সিদ্ধান্ত হবে পারস্পরিক সম্মান ও বাস্তবতাভিত্তিক। এখানে দ্বন্দ্বের সুযোগ নেই।’

জামায়াতের এক নেতা জানান, জোট একটি ত্রিমাত্রিক ফর্মুলায় কাজ করছে—জনসমর্থন, সক্ষমতা ও সাংগঠনিক শক্তি। একই সঙ্গে অভিন্ন ইশতেহার তৈরির কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এর আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমদ ৩৬ নিউজকে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরপর ২১ বা ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে ঘোষণা আসতে পারে ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও বলেন, আসন সমঝোতা নিয়ে কোনো জটিলতা নেই; পুরো প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এগোচ্ছে।

লিয়াজোঁ কমিটির এক নেতা বলেন, ‘শতভাগ প্রত্যাশা পূরণ না হলেও এমন সমঝোতা করতে হবে, যাতে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে একক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে পারেন।’

উল্লেখ্য, একসঙ্গে আন্দোলন করা আট দল হলো— বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি।
দলগুলো ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন’, উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণসহ পাঁচ দফা দাবিতে যৌথভাবে মাঠে সক্রিয় রয়েছে।

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222