নুর আলম সিদ্দিকী >>>
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী দলগুলোর সম্ভাব্য জোট ও আসনভিত্তিক প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সাম্প্রতিক এক জরিপ ও বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ ইসলামী দলগুলো যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে তারা শুধু ভোটের হিসাবই নয়—ক্ষমতার সমীকরণও বদলে দিতে পারে। এই সম্ভাবনা আর কল্পনা নয়, বরং বাস্তবতার খুব কাছাকাছি।
আইআইএলডির জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভোটভিত্তি ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। পাশাপাশি অন্যান্য ইসলামী দল ও ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তির সম্মিলিত সমর্থন রয়েছে আরও কয়েক শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটগুলো যদি বিচ্ছিন্ন না থেকে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মে আসে, তাহলে মোট ইসলামী ভোটের হার দাঁড়াতে পারে ৩৮ থেকে ৪০ শতাংশের কাছাকাছি।
বাংলাদেশের সংসদীয় আসনের সংখ্যা ৩০০। সাধারণ হিসাবে দেখা যায়— জাতীয় পর্যায়ে ৩৫ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়া দল বা জোট সাধারণত ১২০ থেকে ১৫০টি আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।
এই হিসাবে, ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হলে—
✔️ গ্রামীণ আসনে শক্ত অবস্থান
✔️ শহরের ধর্মপ্রাণ মধ্যবিত্ত ভোট
✔️ সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের বড় অংশ
—সব মিলিয়ে তারা কিংমেকার থেকে সরাসরি ক্ষমতার দাবিদার হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যেসব আসনে দ্বিতীয় বা তৃতীয় অবস্থানে ছিল, ঐক্যের মাধ্যমে সেখানে বিজয়ের সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়তে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নির্বাচনে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও সংঘাতমুক্ত রাজনীতির কারণে এমন অনেক আসনে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে, যেখানে বড় দলগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা কমে গেছে।
এদিকে জরিপে উঠে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—১৭ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন। এই সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের বড় অংশ দুর্নীতিমুক্ত ও নৈতিক রাজনীতির খোঁজে রয়েছে। জরিপ বলছে, এই বৈশিষ্ট্যেই ইসলামী দলগুলো তুলনামূলকভাবে এগিয়ে। ইসলামী দলগুলোর ভোট এক জায়গায় গেলে শুধু আসন নয়, সরকার গঠনের হিসাবও পাল্টে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এই ভোটারদের বড় অংশ ইসলামী দলগুলোর দিকে ঝুঁকতে পারে।
বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ভোট ব্যবধান মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ। এমন হাড্ডাহাড্ডি পরিস্থিতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর অবস্থান হয়ে উঠছে নির্ধারক ফ্যাক্টর। অর্থাৎ— ইসলামী দলগুলোর ঐক্য মানে শুধু আসন বৃদ্ধি নয়, বরং ঐক্য মানে—
✔️ সরকার গঠনে প্রভাব
✔️ রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিক এজেন্ডা
✔️ রাজনীতিতে নতুন ধারা প্রতিষ্ঠা
সব মিলিয়ে জরিপ একটি বার্তাই দিচ্ছে— ইসলামী দলগুলো যদি বিভক্ত থাকে, তারা প্রভাবশালী শক্তি।
আর যদি ঐক্যবদ্ধ হয়—তাহলে তারা হতে পারে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই ঐক্যের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে দেশবাসী।
এনএ/
