কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আদালতের আদেশ থানায় পৌঁছালেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাটি উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের পূর্ব টাইপালং এলাকার। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রবাসী মোহাম্মদ শরিফের স্ত্রী শাহিনা আক্তারের ক্রয়কৃত জমি জোরপূর্বক দখল করে বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন একই এলাকার প্রভাবশালী শাহ নেওয়াজ বেগম ওরফে পাকি, মৃত আলী আহমেদের পুত্র শাহ আলম, তার স্ত্রী রহিমা বেগম, জালাল আহমেদের ছেলে হারুনুর রশীদ এবং সেনোয়ারা।
সূত্র জানায়, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভুক্তভোগী শাহিনা আক্তার গত ২০ ডিসেম্বর কক্সবাজার জেলা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে আদালত ২৪ ডিসেম্বর উক্ত জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করে সব ধরনের নির্মাণ ও কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেন। পরবর্তীতে উখিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমন দে ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সতর্ক করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে অভিযুক্তরা নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী শাহিনা আক্তার বলেন,“আমার ক্রয়কৃত জায়গা জোরপূর্বক দখল করে বহুতল ভবনের কাজ করা হচ্ছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও তারা কোনো কিছুর তোয়াক্কা করছে না। এতে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশের ভূমিকা নিরপেক্ষ না থাকায় তার ছেলে-মেয়েদের জীবন নিয়ে তিনি শঙ্কিত।
স্থানীয় বাসিন্দারাও জানান, অতীতে উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষে একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে একই ধরনের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা উখিয়া থানার এসআই সুমন দে বলেন,“আমরা উভয় পক্ষকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার জন্য নির্দেশ দিয়েছি এবং তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছি। আগামী ২১ জানুয়ারি আদালতে শুনানি রয়েছে, সেখানেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে।” তিনি আরও জানান, উভয় পক্ষকে নিয়ে থানার সিনিয়র কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তারা তাতে রাজি হয়নি।
এদিকে এলাকাবাসী অবিলম্বে আদালতের আদেশ কার্যকর করে অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায়।
এমএআর/
