ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন সাউন্ড সিস্টেম ও সংসদ সদস্যদের জন্য সরবরাহকৃত হেডফোন নিয়ে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৫ মার্চ) সংসদের অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এই নতুন ব্যবস্থাকে অর্থ অপচয় ও ‘লুটপাট’ হিসেবে অভিহিত করেন।
স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে শাহজাহান চৌধুরী তার টেবিলে থাকা নতুন হেডফোনটি উঁচিয়ে ধরে বলেন, ‘এটা মনে হয় একটা বাজেট করেছিল, আর ওখান থেকে লুটপাট বাহিনীরা একটা বিল করে খাওয়ার জন্য এ ব্যবস্থাটা করেছেন। এত বড় বোঝা মাথার ওপর দিয়ে এক-দুই ঘণ্টা বসা সবার জন্য কষ্টকর হচ্ছে।’
চট্টগ্রাম-১৪ আসনের এই প্রবীণ এমপি, যিনি ১৯৯১ ও ২০০১ সালেও সংসদ সদস্য ছিলেন, তিনি আরও যোগ করেন যে আগের সংসদগুলোতে কোনো ভারী হেডফোন ছাড়াই কার্যক্রম সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়েছে।
একটি সাধারণ হেডফোন বা উন্নত সাউন্ড সিস্টেম থাকলেই চলত বলে তিনি মনে করেন।
একই বিষয়ে এর আগে জামায়াতের আরেক সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার আপত্তির কথা জানিয়েছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, এই হেডফোনের মান এতটাই নিম্নমুখী যে এটি ব্যবহার করলে কান ও মাথায় ব্যথা শুরু হয়। এমনকি সংসদের পুরনো ডিভাইসগুলো বর্তমান অডিওর চেয়ে অনেক পরিষ্কার ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনেই সাউন্ড সিস্টেমে বড় ধরনের বিভ্রাট দেখা দিয়েছিল।
মাইক্রোফোন কাজ না করায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে কিছুক্ষণ হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে অধিবেশন চালাতে হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সে সময় প্রায় ২০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করতে বাধ্য হন তিনি।
বিরতির পর অধিবেশন শুরু হলেও অনেক মাইক্রোফোন অকেজো থাকায় সংসদ সদস্যরা স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সে সময় স্পিকার বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
সংসদ সদস্যদের অভিযোগ অনুযায়ী, আধুনিকায়নের নামে বিপুল অংকের অর্থ ব্যয় করে যে প্রযুক্তি স্থাপন করা হয়েছে, তা উপকারের চেয়ে ভোগান্তিই বেশি বাড়িয়েছে। এই নিয়ে তদন্তের দাবিও তুলেছেন বিরোধী দলের একাধিক সদস্য।
হাআমা/
