কী বলেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী, কেন ক্ষোভ আলেমদের

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষা চালুর উদ্যোগ ঘিরে বিতর্ক, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নিয়েও আপত্তি

by hsnalmahmud@gmail.com

আব্দুল্লাহ কাসিম আজওয়াদ >>

সরকার প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগীত শিক্ষা চালু করতে যাচ্ছে—সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর এমন ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। একদিকে সরকার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে শিক্ষাব্যবস্থার অংশ করতে চাইছে, অন্যদিকে একাধিক ইসলামী দল ও আলেম সংগঠন এই উদ্যোগকে ধর্মীয় অনুভূতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞাপন
banner

এ ছাড়া পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ আয়োজিত শোভাযাত্রার নাম ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ না ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’—এ বিতর্ক নিয়েও সংস্কৃতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরে সংগীত শিক্ষা চালুর ঘোষণা

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সংগীত শিক্ষা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, গুচ্ছভিত্তিক বা ক্লাস্টার পদ্ধতিতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। এতে সংগীত প্রশিক্ষকেরা একটি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘুরে ঘুরে পাঠদান করবেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার প্রতিটি জেলা ও উপজেলার স্কুলপর্যায়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যেভাবে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে একইভাবে সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নাম বদলানোকে অনর্থক বললেন মন্ত্রী

পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে রাজধানীতে বের হওয়া শোভাযাত্রাটি আগে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে পরিচিত ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকার সেটির নাম পরিবর্তন করে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ করেছিল।

এ বিষয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, নাম পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন ছিল না। তিনি এই বিতর্ককে অনর্থক উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “মঙ্গল বা আনন্দ—নাম নিয়ে কোনও দ্বন্দ্বের প্রয়োজন নেই। শোভাযাত্রাটি আগে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামেই চলছিল এবং নাম পরিবর্তনে বিশেষ কোনও লাভ বা ক্ষতি নেই।”

তিনি জানান, যথাযথ মর্যাদায় পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হবে এবং নাম নিয়ে বিতর্ক না বাড়িয়ে উৎসবের মূল চেতনাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, গত বছর ইউনেসকো স্বীকৃত ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম পরিবর্তন করে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ করায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।

আলেমদের ক্ষোভ কেন?

সংস্কৃতিমন্ত্রীর সংগীত শিক্ষা চালুর ঘোষণা এবং ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নিয়ে অবস্থানকে কেন্দ্র করে একাধিক ইসলামী দল ও আলেম সংগঠন এটিকে ধর্মীয় অনুভূতির বিরুদ্ধে উসকানি হিসেবে দেখছে।

পহেলা বৈশাখে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ মুসলিমদের ওপর চাপানো যাবে না: হেফাজতে ইসলাম

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর আসন্ন পহেলা বৈশাখে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আয়োজনের প্রচেষ্টামূলক বক্তব্যকে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উসকানিমূলক আখ্যা দিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর বক্তব্যে আসন্ন পহেলা বৈশাখে সর্বজনগ্রাহ্য ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’র পরিবর্তে পরিত্যক্ত সাম্প্রদায়িক ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আয়োজনের কৌশলী প্রচেষ্টা ফুটে উঠেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে উপস্থাপিত তার বক্তব্য সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উসকানিমূলক বলে আমরা মনে করি। এছাড়া আনন্দ শোভাযাত্রা ও মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্যে পার্থক্য নেই বলে তার দাবিটিও অজ্ঞতাপ্রসূত ও বিভ্রান্তিকর।

তিনি বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দেশব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আচরিত ধর্মীয় ঐতিহ্য ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’কে পহেলা বৈশাখের মতো জাতীয় উৎসবে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করলে ওলামায়ে কেরাম চুপ করে বসে থাকবেন না। বরং বাংলা সনের প্রবর্তক মুসলমানদের স্বকীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যই এদেশের জাতীয় সংস্কৃতির কেন্দ্রকোরক হওয়াটা ন্যায্য।

তিনি আরো বলেন, ১৯৮৯ সালে ঢাবি চারুকলা বিভাগের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখে সর্বপ্রথম ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়। শুরু থেকেই এটির নাম ছিল ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। কিন্তু ১৯৯৬ সালে ইন্ডিয়ার পাপেট আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার বছরে এদেশের হিন্দুত্ববাদী কালচারাল সেক্যুলার ফ্যাসিস্টরা পহেলা বৈশাখ উদযাপনে পূর্বের ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নাম পাল্টে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ রেখে হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির ভুয়া দাবি প্রতিষ্ঠিত করে। গত বছর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সরকার ঢাবি চারুকলার কালচারাল ফ্যাসিস্ট সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে বাংলা বর্ষবরণ উৎসবের আদি ও আসল নাম ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ ফিরিয়ে আনে। গণঅভ্যুত্থানের সরকার চলে যাওয়ায় সেই কালচারাল ফ্যাসিস্টরা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে চাচ্ছে বলে আমাদের ধারণা। এরাই অতীতে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রায় মরহুম খালেদা জিয়ার ‘অশুভ মূর্তি’ বানিয়ে নোংরা রাজনীতি করেছিল।

তিনি বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে নিতাই রায় চৌধুরীকে সংস্কৃতিমন্ত্রী বানানোর ক্ষেত্রে আমরা কোনো বিরোধিতা বা আপত্তি করিনি। কারণ আমরা সাম্প্রদায়িকতা লালন করি না। কিন্তু আমাদের ঔদার্যের সুযোগ নিয়ে হিন্দুত্ববাদী ও আধিপত্যবাদী সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে যারা আবারও সুযোগ করে দিতে চাইবে, আমরা জুলাইর ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করব ইনশাআল্লাহ।

সংস্কৃতি মন্ত্রীর বিতর্কিত অবস্থানের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
প্রাথমিক শিক্ষায় ধর্মীয় শিক্ষার অগ্রাধিকার নিশ্চিত চায় বাংলােদশ খেলাফত মজলিস

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এক বিবৃতিতে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ঘিরে সরকারের কিছু উদ্যোগ এবং বক্তব্য গভীর উদ্বেগজনক।

বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা এবং সাংস্কৃতিক ইস্যুতে রাষ্ট্রীয় অবস্থান দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতির সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিশুদের নৈতিকতা, চরিত্র গঠন ও ধর্মীয় মূল্যবোধে শিক্ষিত করে গড়ে তোলা। সেখানে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব উপেক্ষা করে অন্য বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার শামিল।

বিবৃতিতে তিনি সরাসরি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী-এর সাম্প্রতিক বক্তব্য ও ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে এমন প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতিকে আঘাত করছে এবং সামাজিক সম্প্রীতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

তিনি আরও বলেন, পহেলা বৈশাখ বা তথাকথিত মঙ্গল শোভাযাত্রার মতো কার্যক্রমকে যদি কোনোভাবে ধর্মীয় রূপ দিয়ে তা সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি বহুধর্মী রাষ্ট্রে কারো ওপর কোনো নির্দিষ্ট সংস্কৃতি বা আচার চাপিয়ে দেওয়ার অধিকার কারও নেই।

মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রীকে অবিলম্বে এসব ইসলামবিরোধী ও মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনার পরিপন্থী কার্যক্রম থেকে সরে আসতে হবে। অন্যথায় এর দায়ভার তাকে বহন করতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এদেশের মাটিতে থেকে পার্শ্ববর্তী কোনো দেশের এজেন্ডা বাস্তবায়নের দুঃসাহস কেউ দেখালে তা দেশের জনগণ মেনে নেবে না। জাতীয় স্বার্থ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে সংযম, দায়িত্বশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে চলার আহ্বান জানান এবং সরকারকে জনগণের ধর্মীয় চাহিদা ও প্রত্যাশার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

পহেলা বৈশাখ ও মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে সংবেদনশীলতা রক্ষার আহ্বান জমিয়তের

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর জাতীয় সংসদে সাম্প্রতিক বক্তব্য গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা হয়েছে। উক্ত বক্তব্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের পরিপন্থী বলে প্রতীয়মান হয়। একটি বহুধর্মী ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে সকল নাগরিকের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা এবং কোনো নির্দিষ্ট সংস্কৃতি বা আচার-অনুষ্ঠান অন্য সম্প্রদায়ের ওপর চাপিয়ে না দেওয়া।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসলেও এর সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রম যদি নির্দিষ্ট ধর্মীয় রূপ ধারণ করে বা তা অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর আরোপের প্রচেষ্টা দেখা যায়, তাহলে তা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। “মঙ্গল শোভাযাত্রা”কে যদি ধর্মীয় আচার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তবে সেটিকে সকলের জন্য বাধ্যতামূলক করার যে কোনো প্রচেষ্টা অনুচিত এবং সংবেদনশীলতার পরিপন্থী।

তারা আরো বলেন, দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। উসকানিমূলক বক্তব্য বা কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা এবং পারস্পরিক সহনশীলতা ও শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়াই বর্তমান সময়ের দাবি।

ভবিষ্যতে এমন কোনো বক্তব্য বা উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে না, যা দেশের সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে পারে—সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান তারা।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত নয়, ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ করুন: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম

প্রাইমারি বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের পরিবর্তে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটি বলেছে, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার বিকাশে প্রাথমিক স্তরে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এই দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনের আগে ধর্মীয় শিক্ষা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সংগীত শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ সেই প্রতিশ্রুতির সাথে সাংঘর্ষিক বলে তারা উল্লেখ করেন।

তারা আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিশুদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধে গড়ে তোলা। সে ক্ষেত্রে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ সময়োপযোগী ও জনগণের প্রত্যাশার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ সরকারের কাছে দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে।

শিক্ষাখাতের মৌলিক ইস্যু আড়াল করতেই সঙ্গীত শিক্ষক নিয়ে বিতর্ক উস্কে দেয়া হয়েছে: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা কেফায়েতুল্লাহ কাশফী শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমাদের শিক্ষাখাতের অগ্রাধিকার বিবেচনা করে প্রাথমিকে ভাষা, ভিত্তিমূলক গণিত ও মৌলিক বিজ্ঞানের ওপর জোর দেয়া উচিত। আর উচ্চশিক্ষায় গবেষণাখাতে জোর দেয়া উচিত। এর সাথে শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষকদের মানসম্মত ও সম্মানজনক বেতন-ভাতা প্রদান শিক্ষাখাতের অন্যতম প্রাধান্য।

তিনি বলেন, এসব মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার খাতকে উপেক্ষা করতে এবং এসব নিয়ে আলোচনাকে ধামাচাঁপা দিতেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগের অপালাপ সামনে আনা হয়েছে।

মাওলানা কেফায়েতুল্লাহ কাশফী বলেন, সংস্কৃতি একটি বিস্তৃত বিষয়, সঙ্গীত তার একটি ক্ষুদ্র অংশ। সঙ্গীত সার্বজনীন চর্চা ও অর্জনের কোন বিষয় না বরং সঙ্গীত চর্চা বহুলাংশে নির্ভর করে জন্মগতভাবে প্রাপ্ত কণ্ঠস্বরের ওপরে; যা সবার সমানভাবে থাকে না।

তিনি বলেন, কোমলমতি বাচ্চাদের গণহারে বাধ্যতামূলক সঙ্গীত শেখানো শুরু করলে যারা প্রাকৃতিকভাবে কিন্নরকণ্ঠের অধিকারী না তাদের মধ্যে হীনমন্যতা তৈরি হবে। যা শিশুদের ভবিষ্যৎ বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তাই সরকারকে বলবো, শিক্ষাখাতে অপরিহার্য ও জরুরি বিষয়ে মনোযোগ দিন। অহেতুক বিষয়ে বিতর্ক তুলবেন না।

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222