ইরানে চলমান যুদ্ধের মধ্যেও থেমে নেই দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য! দেশটির সিস্তান ও বালুচিস্তান প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, অর্থনৈতিক সহযোগিতা গভীরতর করা এবং আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইরানি প্রতিনিধি দল আফগানিস্তান সফর করেছে। সাম্প্রতিক নিমরোজ সফরের পর আফগান কর্মকর্তাদের সাথে একটি ২৩ দফার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সিস্তান ও বালুচিস্তানের অর্থনৈতিক সমন্বয় ও আঞ্চলিক উন্নয়ন বিষয়ক উপ-প্রধান মজিব হাসানি বলেন, এই সফর থেকে উল্লেখযোগ্য ফলাফল পাওয়া গেছে; বিশেষ করে ক্ষুদ্র-মাপের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সীমান্ত বাজার সক্রিয় করা এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে। আইআরএনএ সংবাদ সংস্থা এই তথ্য জানিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন যে, শাহগোল, মিলক এবং গুমশাদ-এ স্থানীয় সীমান্ত বাজার চালু করতে ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত, তবে এর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে আফগান পক্ষের প্রস্তুতির ওপর। হাসানির মতে, সীমান্তের ইরানি অংশে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি জানান, সরকারি ক্রসিংগুলোর মাধ্যমে বাণিজ্য চলমান রয়েছে, যার মধ্যে গবাদি পশু আমদানির মতো প্রধান পণ্যগুলো বিনিময় হচ্ছে—বিশেষ করে ঈদুল আযহার আগে যখন সাধারণত চাহিদা বৃদ্ধি পায়।
হাসানি আরও যোগ করেন যে, আফগানিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রীর ইরান সফরের পর এই ২৩ দফার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে বাণিজ্য সহজতর করতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের ওপর জোরালো গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই চুক্তির প্রাথমিক ফলাফলগুলোর মধ্যে একটি হলো দুটি সীমান্ত বাজারকে সংযুক্তকারী একটি অস্থায়ী রাস্তা নির্মাণ, যা স্বল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং ইতিমধ্যে বাণিজ্য প্রবাহ বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।
তিনি দ্বিতীয় একটি সীমান্ত সেতু নির্মাণের ব্যাপারে ইরানের প্রস্তুতির কথা নিশ্চিত করেন এবং জানান যে কিছু সরঞ্জাম ইতিমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। তবে প্রকল্পের আরও অগ্রগতি—যা বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশ সম্পন্ন—আফগান কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে।
সীমান্তে একটি এক্স-রে স্ক্যানিং সিস্টেম স্থাপনের পরিকল্পনাও চলছে, যার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে এবং জাওজা (জুন) মাসের শেষ নাগাদ এটি চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়াও হাসানি বলেন, এই অঞ্চলে সড়ক সম্প্রসারণ এবং রেলপথ উন্নয়নসহ ব্যাপক অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলো বিবেচনা করা হচ্ছে, যদিও এগুলি বাস্তবায়নে সময় লাগবে।
তিনি আফগান ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে ইরানের চাবাহার মুক্ত অঞ্চলে গৃহীত প্রচেষ্টার কথাও তুলে ধরেন, যার মধ্যে বাণিজ্যিক গুদামজাতকরণ সুবিধার উন্নয়ন এবং ব্যবসার কাজে জমি বরাদ্দ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, এই উদ্যোগগুলো দুই দেশের মধ্যে টেকসই অর্থনৈতিক সহযোগিতার কেন্দ্রে পরিণত করার জন্য একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। সূত্র: টোলো নিউজ
হাআমা/
