হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি তেলের ট্যাংকার ও পণ্যবাহী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির চুক্তি চলাকালীন সময় পর্যন্ত এই টোল আদায় কার্যক্রম কার্যকর থাকবে।
ইরানের একজন বাণিজ্য প্রতিনিধি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছেন, প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজগুলোকে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার করে ফি দিতে হবে। তবে যেসব জাহাজ খালি থাকবে, সেগুলোকে কোনো ফি দিতে হবে না। এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে বিশাল আকৃতির সুপার ট্যাংকারগুলোকে হরমুজ পার হতে কয়েক মিলিয়ন ডলার টোল গুনতে হবে।
ইরান এই যাতায়াত প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জাহাজগুলোকে প্রণালী পার হওয়ার আগে ইমেইলের মাধ্যমে আগাম নোটিশ এবং জাহাজ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ইরানি কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পরই কেবল জাহাজ পার হতে পারবে। এছাড়া টোল পরিশোধ করতে হবে অগ্রিম এবং তা ডলারে নয়, বরং বিটকয়েন অথবা চীনা মুদ্রা ইউয়ানে পরিশোধের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জাহাজগুলোকে ইরানের উপকূলের নিকটবর্তী কাশেম ও লারেক দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জাহাজ সহজে পার হতে পারলেও শত্রু দেশগুলোর জাহাজকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে অথবা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।
পশ্চিমা কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকায় ইরান ডলারে লেনদেন করতে পারছে না। ফলে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এবং লেনদেন শনাক্তকরণ এড়াতে তারা ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ইউয়ানকে বেছে নিয়েছে। আঞ্চলিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, ইতিমধ্যে ইউয়ানের মাধ্যমে টোল আদায় শুরু করেছে তেহরান।
টিএইচএ/
