পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর বর্তমান সামরিক জান্তা প্রধান ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে বিশেষ সাক্ষাৎকারে পশ্চিমা গণতন্ত্রের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, “গণতন্ত্র আমাদের জন্য নয়, এটি মানুষ হত্যা করে।”
সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে ২০২২ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা ত্রাওরে বর্তমানে আফ্রিকার তরুণ প্রজন্মের কাছে ‘সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী বিপ্লবী’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছেন। রাজধানী উয়াগাদুগুতে আয়োজিত এই সাক্ষাৎকারে পশ্চিমা গণমাধ্যমের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
সাক্ষাৎকারে ক্যাপ্টেন ত্রাওরে দাবি করেন, তার বিপ্লব আদর্শিক মুক্তি ও আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াই , পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে নয়। তিনি নিজেকে বুরকিনা ফাসোর কিংবদন্তি নেতা টমাস সানকারার আদর্শিক উত্তরসূরি হিসেবে উপস্থাপন করেন। ক্ষমতায় আসার পর তিনি সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্সের সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে রাশিয়া এবং চীনের সঙ্গে সখ্যতা বাড়িয়েছেন। তবে অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে তার শাসনামলে নাগরিক অধিকার হরণ এবং সমালোচকদের ওপর কঠোর দমন-পীড়নের অভিযোগ উঠেছে। তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংস্থাগুলো ১ হাজার ২০০-এর বেশি বেসামরিক নাগরিককে বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ এনেছে, যদিও ত্রাওরে এই দাবিগুলোকে ভিত্তিহীন এবং পশ্চিমা মিডিয়ার ‘মিথ্যাচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিষয়ে ত্রাওরে দাবি করেন, স্বশস্ত্র গোষ্ঠিগুলোকে সীমান্তের দিকে হটিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই ভ্রমণ করছেন। তবে গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স ২০২৫ অনুযায়ী, বুরকিনা ফাসো বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সন্ত্রাসকবলিত দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির প্রায় ৬০ শতাংশ ভূখণ্ড বর্তমানে সন্ত্রাসীদের দখলে রয়েছে। গত বছর এক হাজার ২০০টিরও বেশি সন্ত্রাসী হামলায় দেশটিতে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
ইদানীংকালে বুরকিনা ফাসোতে সমকামিতা বিরোধী বিল পাস এবং সরকারি নীতির সমালোচনা করায় সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্টদের সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ত্রাওরে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাকস্বাধীনতা থাকলেও ‘বিপ্লবের বিরুদ্ধে’ কোনো কথা বলার সুযোগ তার দেশে নেই।
অনুবাদ: তানবিরুল হক আবিদ
তথ্যসূত্র: স্কাই নিউজ
টিএইচএ/
