যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন ইরানে হামলা শুরু করে, তখন থেকেই হরমুজ প্রণালির ওপর বিশ্বের নজর। যুদ্ধ শুরুর আগ পর্যন্ত এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ২০ শতাংশ কোনো টোল ছাড়াই নিরাপদে পরিবহন করা হতো। এটি ইরান ও ওমানের অংশীদারত্বে থাকা একটি প্রণালি, যা আন্তর্জাতিক জলসীমার অন্তর্ভুক্ত নয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। তারা হরমুজ প্রণালিতে ‘শত্রু’ দেশের পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে পুরো প্রণালির নৌ চলাচল অচল করে দেয়। এর ফলে বিশ্বে এক ভয়াবহ জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি দিলেও ইরান প্রণালি খুলতে রাজি হয়নি। অবশেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ায় ট্রাম্প তার হুমকি থেকে সরে আসেন।
ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফার ভিত্তিতে এ যুদ্ধবিরতি হলেও এখন সামনে আসছে নতুন সংকট। ইরান ঘোষণা দিয়েছে, হরমুজ প্রণালি তাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে এবং সেখান দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজ থেকে তারা ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায় করবে। এই অর্থ তারা যুদ্ধবিধ্বস্ত সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে ব্যবহার করবে বলে জানিয়েছে। তবে ওমান এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে বলেছে, আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী তারা কোনো ফি নিতে পারে না।
ইরানের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি বলে মনে করছেন। জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন অনুযায়ী, শুধু পথ ব্যবহারের জন্য কোনো কর আদায় করা যায় না, যদিও সেবা প্রদানের জন্য ফি নেওয়া যেতে পারে। তবে মজার বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান কেউই এই চুক্তিতে অনুস্বাক্ষর করেনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যদি এই ফি-কে ‘মাইন অপসারণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের ফি’ হিসেবে দাবি করে, তবে আন্তর্জাতিক আইনে তারা পার পেয়েও যেতে পারে।
হাআমা/
