ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। আগামী ২২ এপ্রিল এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রায় ১০ হাজার অতিরিক্ত সেনা ওই অঞ্চলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এনডিটিভির খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশের সঙ্গে প্রায় ৬ হাজার এবং বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপের সঙ্গে আরও ৪ হাজার ২০০ নৌ ও মেরিন সেনা চলতি মাসের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে। বর্তমানে ইরানি তৎপরতা মোকাবিলায় ওই অঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান এই সংঘাত খুব দ্রুত শেষ হতে পারে। তিনি বলেন, যদি তারা বুদ্ধিমানের মতো কাজ করে, তাহলে যুদ্ধ দ্রুতই থামবে।
তিনি আরও বলেন, সংঘাত শেষ হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেক কমে আসবে।
ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর গত রোববার ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, গত ৩৬ ঘণ্টায় তারা ইরানের সমুদ্রপথের বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ অচল করে দিয়েছে। প্রয়োজনে ইরানি জাহাজে তল্লাশি চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
অন্যদিকে, এই অবরোধকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছে ইরান। দেশটির সামরিক কমান্ডের প্রধান আলি আবদুল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগর অঞ্চলে কোনো জাহাজকে অন্যায়ভাবে বাধা দেওয়া হলে ইরান তা সহ্য করবে না। আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে তারা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।
সংঘাত কমাতে চলতি সপ্তাহান্তে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আবার আলোচনা হতে পারে। তবে যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি ও পাল্টাপাল্টি হুমকির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে।
হাআমা/
