পাকিস্তানজুড়ে বিভিন্ন কারাগারে বন্দি থাকা ৩১৯ জন আফগান নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। গত এক মাসে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তাদের মুক্তি দেওয়ার পর পুনরায় আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে অভিবাসীদের সমস্যা বিষয়ক কমিশন। মূলত পাকিস্তানে আফগান অভিবাসীদের ওপর বাড়তে থাকা চাপের মুখেই এই বন্দি মুক্তির ঘটনা ঘটেছে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বৈধ বসবাসের নথিপত্র না থাকা, অবৈধ প্রবেশ কিংবা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে পাকিস্তানি পুলিশ এই ব্যক্তিদের বিভিন্ন সময় আটক করেছিল। অভিবাসীদের সমস্যা বিষয়ক কমিশনের মুখপাত্র আহমাদুল্লাহ ওয়াসিক জানান, গত এক মাসে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহর থেকে ৩১৯ জন অভিবাসীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ইসলামিক আমিরাতের দূতাবাস এবং আফগান কনস্যুলেটগুলোর বিশেষ প্রচেষ্টায় তাদের মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে অভিবাসী অধিকার কর্মীদের মতে, আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে কর্মসংস্থানের অভাব এবং চলমান অর্থনৈতিক সংকটই নাগরিকদের দেশত্যাগের প্রধান কারণ। তারা পাকিস্তানকে মানবিক নীতিমালা এবং আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড অনুযায়ী আফগান অভিবাসীদের সাথে আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। অভিবাসী অধিকার কর্মী সৈয়দ আব্দুল বাসিত আনসারি বলেন, আমরা আয়োজক দেশগুলোকে অনুরোধ করি তারা যেন অভিবাসীদের ইস্যুকে রাজনৈতিক বিষয় থেকে আলাদা রাখে। বিশেষ করে আফগান অভিবাসীরা বর্তমানে বিভিন্ন দেশে অত্যন্ত মানবেতর ও নাজুক অবস্থায় জীবনযাপন করছেন।
আরেকজন কর্মী মোর্তজা রাসুলি জানান, বন্দিদের প্রত্যাবাসন একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। কারণ বিদেশের জেলগুলোতে অনেক আফগান বন্দি অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে বাস করছেন এবং তারা তাদের মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানে আফগান অভিবাসীদের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে যে, বৈধ নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।
তথ্যসূত্র: টোলো নিউজ
টিএইচএ/
