কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলোচিত চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ যেন শেষ হওয়ার নয়। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগে গত ২৫ আগস্ট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এতেও তাদের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ হয়নি। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের কারণে সারা দেশের মতো চৌদ্দগ্রামেও তেলের কিছুটা সংকট দেখা দেয়। সংকটকালীন দিনের বেলায় তেল না থাকার অজুহাতে পেট্রোল পাম্পের কার্যক্রম বন্ধ রাখলেও রাত ৮টার পর পুরো উপজেলার মাটি পরিবহনের ব্যবসায়ীরা সিরিয়াল দিয়ে বড় ড্রামে করে তেল নিয়ে যান।
এ ক্ষেত্রে ডিজেলে প্রতি লিটারে ৫ টাকা এবং পেট্রোল-অকটেনেও বাড়তি টাকা সংগ্রহ করেন ফিলিং স্টেশনটির ম্যানেজার নাছির উদ্দিন। তেল সংগ্রহে আসা একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, বাড়তি টাকা তেল নেওয়ার আগে কিংবা পরে আলাদা পরিশোধ করতে হয়। দিনের বেলায় তেল না পাওয়ায় মোটরসাইকেলচালক ও উপজেলার অন্যান্য যানবাহনচালকেরা দীর্ঘদিন নানা অভিযোগ দিয়ে আসছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরে সরেজমিনে দেখা যায়, অটোরিকশায় করে ৬০ লিটার তেল নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা জানান, মাটির ট্রাক্টর এবং ভেকু চালানোর জন্য তারা প্রতিদিন চৌধুরী ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিয়ে যান। ভেকু ও ট্রাক্টরের মালিক লাকসাম সড়কের শাহ আলম নামে এক ব্যক্তি। পরে শাহআলমকে মোবাইল ফোনে কল করলে তিনি রাতে তেল কেনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়তি দিয়ে ডিজেল সংগ্রহ করা হয়েছে।
তাৎক্ষণিক সংবাদকর্মীরা অভিযোগ করলে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় ইউএনওর উপস্থিতিতেও একাধিক মাটি ব্যবসায়ী ড্রাম নিয়ে তেলের জন্য আসেন।
এদিকে রাতে তেল বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার নাছির উদ্দিনকে সংবাদকর্মীরা জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সংবাাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং দ্রুত স্থান ত্যাগ করে ভিতরে চলে যান।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আমিন বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার রাতে ঘটনাস্থলে যাই। আমি আসার আগেই চলে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক তেলসহ পাওয়া যায়নি অভিযুক্তকে। তাই ওই সময় ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
হাআমা/
