শ্রীলঙ্কার একটি বিমানবন্দরে বিদেশ থেকে আনা বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ২২ জন বৌদ্ধ ভিক্ষুকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে এই চক্রের মূল হোতা সন্দেহে আরও এক ভিক্ষুকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দেশটির কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, গত শনিবার থাইল্যান্ড থেকে একটি ফ্লাইটে রাজধানী কলম্বোয় পৌঁছানোর পর ওই ভিক্ষুদের সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তাদের প্রত্যেকের লাগেজ থেকে প্রায় ৫ কেজি করে ‘কুশ’ নামক অত্যন্ত শক্তিশালী গাঁজা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ১১০ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। মাদকগুলো সুকৌশলে লাগেজের ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বার বা ‘ফলস সিলিংয়ে’ লুকানো ছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ভিক্ষুরা মূলত শিক্ষার্থী। তারা চার দিনের এক প্রমোদ ভ্রমণে থাইল্যান্ড গিয়েছিলেন। পুরো ভ্রমণের খরচ বহন করেছিল একটি অজ্ঞাত স্পনসর প্রতিষ্ঠান। দেশে ফেরার পর তারা এই বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ধরা পড়েন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, ২৩তম এক ভিক্ষুকে কলম্বোর একটি উপশহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি নিজে থাইল্যান্ড না গেলেও পুরো ভ্রমণের আয়োজন করেছিলেন। ভারপ্রাপ্ত পুলিশ মুখপাত্রের তথ্যমতে, ওই আয়োজক ভিক্ষু অন্যদের বলেছিলেন যে প্যাকেটে থাকা সামগ্রীগুলো ‘অনুদান’ হিসেবে দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো বিমানবন্দরে গ্রহণের জন্য একটি ভ্যান আসবে।
পুলিশ নারকোটিক্স ব্যুরো (পিএনবি) তদন্তে নেমে ভিক্ষুদের মোবাইল ফোনে কিছু ছবি ও ভিডিও পেয়েছে। সেখানে দেখা যায়, থাইল্যান্ডে থাকাকালীন তারা ধর্মীয় পোশাক ছেড়ে সাধারণ পোশাকে ছুটি উপভোগ করছিলেন। গত রবিবার আদালতে হাজির করার পর ২২ ভিক্ষুকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বিচারক।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, সাধারণ ভিক্ষুরা হয়তো তারা কী বহন করছিলেন সে বিষয়ে পুরোপুরি অবগত ছিলেন না। কারণ মাদকগুলো কৌশলে স্কুলের শিক্ষা সামগ্রী ও মিষ্টির প্যাকেটের সঙ্গে মিশিয়ে রাখা হয়েছিল।
টিএইচএ/
