বাসের জানালা থেকে রড অপসারণের নির্দেশ বিআরটিএ-র

by Abid

দেশের গণপরিবহণে সড়ক দুর্ঘটনা পরবর্তী প্রাণহানির ঝুঁকি কমাতে এবং যাত্রীদের দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, সকল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসে জরুরি বহির্গমন পথ বা ইমার্জেন্সি ডোর নিশ্চিত করতে হবে এবং নন-এসি বাসের জানালা থেকে সমান্তরাল স্টেইনলেস স্টিলের রড দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিআরটিএ কর্তৃক প্রকাশিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, দুর্ঘটনার সময় বাস থেকে দ্রুত বের হতে না পারাই বর্তমান সময়ে অধিক প্রাণহানির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই যাত্রীদের জীবন রক্ষায় এই বিকল্প পথ ও জানালার প্রতিবন্ধকতা দূর করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

বিআরটিএ-র বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সড়ক ও মহাসড়ক, ফেরিঘাট কিংবা রেলক্রসিং পারাপারের সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দেখা যায় বাসের মূল দরজা অনেক সময় আটকে যায়। এতে করে আটকে পড়া যাত্রীরা জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু এসি বাসের স্থায়ীভাবে বন্ধ থাকা গ্লাস এবং নন-এসি বাসের জানালায় থাকা স্টিলের রডের কারণে যাত্রীরা বের হতে পারেন না, যা ভয়াবহ ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়। এই সংকট উত্তরণে বিআরটিএ নির্দেশ দিয়েছে যে, এসি বাসের দৃশ্যমান স্থানে অবশ্যই ‘ইমার্জেন্সি ডোর’ চিহ্নিত থাকতে হবে এবং জরুরি প্রয়োজনে জানালার গ্লাস ভাঙার জন্য নির্ধারিত হাতুড়ি বা প্রয়োজনীয় উপকরণ বাসের ভেতরে সহজলভ্য রাখতে হবে।

অন্যদিকে, নন-এসি বাসের জানালায় পর্দার ঝোলাতে ব্যবহৃত স্টিলের রডগুলোকে দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের বের হওয়ার পথে বড় বাধা ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। এই সমান্তরাল রডগুলো থাকার ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের পক্ষে জানালা গলে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনায় বাস দুমড়েমুচড়ে গেলে বা অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটলে প্রাণহানি বেড়ে যায়। জনস্বার্থে দেওয়া এই নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিআরটিএ সতর্ক করে বলেছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই নির্দেশনাসমূহ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট বাস মালিক ও চালকদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংস্থাটি আশা প্রকাশ করেছে যে, বাসের কাঠামোতে এই ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়িত হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলেও যাত্রীরা দ্রুত বিকল্প পথে বের হয়ে আসতে পারবেন। এতে করে হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং পরিবহণ খাতে নিরাপত্তার এক নতুন মানদণ্ড তৈরি হবে। এই সিদ্ধান্তকে যাত্রী অধিকার রক্ষা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন স্বাগত জানিয়েছে এবং এর যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222