নিজস্ব প্রতিবেদক :: কৃষক কীভাবে বাঁচবে? অসময়ে ধানী জমি তলিয়ে যাওয়ায় কী ভয়ঙ্কর বিপদের মধ্যে পড়েছে কৃষক তা বলাবাহুল্য। হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ, অকাল বন্যায় ফসলহানিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ এবং হাওর সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সাত দফা দাবি জানিয়েছে ঢাকাস্থ হাওর অঞ্চলবাসী।
শনিবার (২ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন হাওর অঞ্চলবাসীর প্রধান সমন্বয়ক ড. হালিম দাদ খান, সাবেক অতিরিক্ত সচিব গোলাম শফিক, অ্যাডভোকেট ফরিদ আহমেদ, প্রফেসর ডা. শাহীন রেজা চৌধুরী, প্রিন্সিপাল এম, এ মোনায়েম, পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্কারের সভাপতি কাশমির রেজা প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে, মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু করে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত তিন দফা বৃষ্টিতে এবং কয়েকটি হাওরের বাঁধ ভেঙে এখন পর্যন্ত হাওর অঞ্চলে অন্তত ৪৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও শিলাবৃষ্টিতে অন্তত ৮০০ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এখনো হাওরে এবং মেঘালয়ের পাহাড়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত আছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী এ ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
বক্তারা বলেন, হাওরবাসী আজ ভয়াবহ দুর্যোগের সম্মুখীন। হাওরাঞ্চলের মানুষের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত হাওরের যেসব জমির ধান কাটা হয়েছে, সেসব ধান বৃষ্টির কারণে শুকানো যাচ্ছে না। অনেক ধান পচে গেছে। পানির তোড়ে মাড়াই করা ধান খলা থেকে ধুয়ে চলে যাচ্ছে। এসব ধান নিয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন হাওরের কৃষক।
তারা বলেন, এবছরের মতো অতীতে জলাবদ্ধতা এত ব্যাপক আকারে দেখা যায়নি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সংঘটিত অতিবৃষ্টি এবং হাওরের অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধ এই জলাবদ্ধতার জন্য মূলত দায়ী। কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা ও গবেষণা ছাড়া হাওরে বাঁধ দেওয়া হচ্ছে। এসবে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগ রয়েছে। তাই হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত গবেষণা খুব জরুরি।
সাত দফা দাবিগুলো হলো-
১. হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
২. অকাল বন্যায় ফসলহানিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বছরব্যাপী খাদ্য সহায়তা দেওয়া।
৩. হাওরে ব্যাপক ভিত্তিতে নদী-খাল-বিল খনন করে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা।
৪. হাওরের মাঝ দিয়ে অপরিকল্পিত সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করা।
৫. হাওর সমস্যার স্থায়ী সমাধানে গবেষণা করে বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ।
৬. জলাবদ্ধতা নিরসনে কৌশলগত অবস্থান নির্ণয় করে স্লুইস গেট নির্মাণ।
৭. হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা।
