সিলেট প্রতিনিধি :: সিলেট সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের ব্যাগ নিজেই কাঁধে বহন করে দেশের মানুষকে অবাক করে দিয়েছেন। বিমান থেকে নেমে আসার পর সতীর্থরা ব্যাগ নিতে চাইলে তিনি কাউকে ব্যাগ বহন করতে দিতে চাইলেন না। পুরো সিলেট সফরজুড়ে নিজের ব্যাগ নিজেই বহন করেছেন।
আজ ২ মে ২০২৬ শনিবার সিলেট সফরে গেলে এমন ঘটনার অবতারণা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনরা এ নিয়ে প্রশংসা করছেন। লেখক নাজমুল ইসলাম কাসেমী লিখেছেন, ‘চিরচেনা ড্রেস আর নিজের ব্যাগটা নিজেই বহন করা প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে এই প্রথম দেখলাম। অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আপনার আশপাশের মানুষগুলো আপনার কাছ থেকে শিখুক।’
মুহাম্মদ নাহিয়ান হাসান লিখেছেন, এরকম চাইছি নতুন বাংলাদেশ।
হাসান আলী লিখেছেন, আজকে দেখলাম প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান নিজের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলেন, ‘প্রটোকল অফিসাররা ব্যাগটা নিতে চাইলে তিনি না দিয়ে নিজেই নিজের কাঁধে বহন করলেন। নিঃসন্দেহে এটা প্রশংসনীয় কাজ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ করে জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন করতে পারলে জনাব তারেক রহমানের উপর বাংলাদেশের সকল জনগণের পূর্ণ আস্থা ফিরে আসব ‘
দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকার খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে । তিনি বলেন, পানির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সকাল ১০টার দিকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে সিলেটে এসে হজরত শাহজালাল (রা.) এর মাজার জিয়ারত করেন তারেক রহমান। এরপর সুরমা নদীর তীরে চাঁদনীঘাট এলাকায় সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) আয়োজিত এক কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। সেখানে সিলেট নগরকে বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এদিকে সকাল ১১টায় সুরমা নদীর তীরে চাঁদনীঘাট এলাকায় সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) আয়োজনে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সিলেট নগরকে বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ঘোষণা দেওয়ার জন্য সিলেটে ছুটে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সিসিক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সুরমা নদীর সংযোগস্থলে জলকপাট বা স্লুইস গেট নির্মাণ, তীর উঁচু করা ও পাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্বোধন শেষে প্রকল্পের সার্বিক দিক প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করেন সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর। এই সময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, এমরান আহমদ এমপি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেটে প্রতিবছর বেশকিছু আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়ানোর আগেই তলিয়ে যায়। ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের বন্যার অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে সম্প্রতি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এই বিষয়ে একাধিক সভা ও সেমিনার হয়েছে। বাংলাদেশের প্রখ্যাত পানি বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত এরই মধ্যে সিলেট পরিদর্শন করে নিজের মতামত দিয়েছেন।
সিসিকের প্রকৌশল শাখা জানায়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ করতে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট প্রস্তাব করা হয়েছে সরকারের কাছে। এখনো এটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায়নি। তবে বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে সরকার প্রজেক্টটি গ্রহণ করেছে। বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। প্রকল্পটির জন্য প্রথম ধাপে ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা রয়েছে।
জানা গেছে, প্রকল্পটিতে স্লুইস গেট প্রস্তাবনা আছে তিনটি। একটি নগরের কাজিরবাজার এলাকায় বৈঠাখাল, ছড়ার পাড় এলাকার গোয়ালীছড়া ও বোরহানউদ্দিন এলাকার হলদিছড়া। স্লুইস গেটগুলোর পাশে পাম্প বসানো হবে। নদীর পানি শহরে প্রবেশ না করার জন্য স্লুইস গেট বন্ধ রাখা হবে। আবার বৃষ্টির পানিতে ছড়া ভরে গেলে সেই পানি নিষ্কাশনের জন্য পাম্প দেওয়া হবে। এ ছাড়া সিলেট তামাবিল বাইপাস রোডের শাহপরান ব্রিজ থেকে বাধাঘাট ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৭ কিলোমিটার নদীর দুই পাড় উঁচু করা হবে। যেখানে পাড় উঁচু করার জায়গা নেই, সেখানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ দেয়াল নির্মাণ করা হবে।
