দীর্ঘ ১৫ বছর পর আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার রুদ্ধশ্বাস অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)।
শনিবার (২ মে) ওসামা বিন লাদেন নিহতের ১৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে সংস্থাটি এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ২০১১ সালের ২ মে দিবাগত রাতে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর এক ঝটিকা অভিযানে নিহত হন ওসাম বিন লাদেন। সিআইএ জানিয়েছে, দীর্ঘ দেড় দশক ধরে অপ্রকাশিত থাকা অনেক তথ্যই এখন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অনুমোদনে পরিচালিত এই অপারেশনটি ছিল দীর্ঘ কয়েক বছরের গোয়েন্দা তৎপরতার ফসল। বিন লাদেনের অবস্থান শনাক্ত করতে সিআইএ তার অত্যন্ত বিশ্বস্ত একজন সহযোগীকে ট্র্যাক করা শুরু করে। সেই সূত্র ধরেই অ্যাবোটাবাদের একটি সুরক্ষিত এবং উচ্চ প্রাচীরবেষ্টিত কম্পাউন্ডের সন্ধান পান গোয়েন্দারা। ভবনটির অস্বাভাবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, চারপাশে কাঁটাতারের বেষ্টনী, আধুনিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং এমনকি বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলার বিষয়টি গোয়েন্দাদের সন্দেহকে আরও দৃঢ় করে। গোয়েন্দা সংস্থাটি নিশ্চিত হয় যে, এই সুরক্ষিত আস্তানায় বিন লাদেন স্বয়ং অবস্থান করছেন।
অভিযানের রাতের বিবরণ দিয়ে সিআইএ জানায়, দুটি হেলিকপ্টার নিয়ে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ওই কম্পাউন্ডে অবতরণ করে। অবতরণের সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হলেও আভিযানিক দল তা অগ্রাহ্য করেই লক্ষ্যপানে এগিয়ে যায়। অভিযান শুরুর মাত্র নয় মিনিটের মাথায় ওসামা বিন লাদেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষা এবং অন্যান্য একাধিক পদ্ধতিতে তার পরিচয় নিশ্চিত করার পর মরদেহটি উত্তর আরব সাগরে সমাহিত করা হয়।
সিআইএ আরও উল্লেখ করেছে যে, লাদেনের আস্তানা থেকে উদ্ধার করা নথিপত্র অনুযায়ী তিনি মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আল-কায়েদার সক্রিয় নেতৃত্বে ছিলেন এবং ওই আস্তানা পরিবর্তনের পরিকল্পনাও করছিলেন। সংস্থাটির মতে, বিন লাদেনকে হত্যা ছিল আল-কায়েদাবিরোধী অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক বিশাল মাইলফলক।
তথ্য: টোলো নিউজ
টিএইচএ/
