অভ্যন্তরীণ জ্বালানি তেলের উৎপাদন বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে আফগানিস্তানের ইসলামি ইমারাত সরকার। সরকারের বিশেষ প্রচেষ্টায় দেশটিতে তেল উত্তোলন কার্যক্রমের পরিধি গত কয়েক মাসে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে আফগানিস্তানে যে পরিমাণ তেল উৎপাদিত হচ্ছে, তা দেশটির মোট চাহিদার ১৫.৭ শতাংশ পূরণ করছে। তবে নতুন নতুন তেল খনি থেকে নিষ্কাশন কর্মসূচি শুরু হওয়ায় অদূর ভবিষ্যতে এই উৎপাদন আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন প্রকল্পগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় বাজারে দেশীয় তেলের অংশ ২৯.৭৫ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রধান শফি আজম এই উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, তেল নিষ্কাশন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সরকার বেশ কিছু আধুনিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে জ্বালানি তেলের জন্য অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীলতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আফগানিস্তানকে তাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন দেশ থেকে বছরে প্রায় ৩০ লাখ টন তেল আমদানি করতে হয়। স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমদানির এই বিশাল অংক ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাবে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন শক্তিশালী করা হলে তা কেবল দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে না, বরং জ্বালানি স্বনির্ভরতা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একইসঙ্গে আমদানির পেছনে ব্যয় হওয়া বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপও কমবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আফগানিস্তানে প্রচুর পরিমাণে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে দেশটি কেবল স্বয়ংসম্পূর্ণই হবে না, বরং ভবিষ্যতে জ্বালানি পণ্য রপ্তানি করার সক্ষমতাও অর্জন করতে পারবে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বর্তমানে খনি এলাকাগুলোতে কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বাখতার নিউজ
টিএইচএ/
