গণমাধ্যম কর্মীদের চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) সাম্প্রতিক নির্দেশনাকে পক্ষপাতমূলক ও শ্রম অধিকারের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ গ্রীন পার্টি।
রবিবার (১৭ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলটি জানায়, অ্যাটকোর নির্দেশনায় বলা হয়েছে,কর্মরত অবস্থায় অথবা চাকরি ছাড়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ‘অনাপত্তিপত্র’ (এনওসি) ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি গ্রহণ করা যাবে না। এই সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত স্বাধীনতা ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা, নোটিশ পিরিয়ড ও দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও কোনো কর্মীকে পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল করে নতুন চাকরিতে যোগদানের পথ সীমিত করা অন্যায় ও অমানবিক।
বাংলাদেশ গ্রীন পার্টি আরও জানায়, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মতবিরোধ, বেতন বকেয়া বা অনৈতিক আচরণ নিয়ে সমস্যা থাকে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি ছাড়পত্র দিতে গড়িমসি করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মী দীর্ঘ সময় পেশাগত অনিশ্চয়তায় পড়তে পারেন, যা শ্রমনীতির পরিপন্থী।
দলটির মতে, ক্ষমতার ভারসাম্য একতরফাভাবে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকে পড়লে কর্মীদের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে যায়। তাই এনওসি আবেদনের পর ৭ কার্যদিবসের মধ্যে যৌক্তিক কারণ ছাড়া তা আটকে রাখা যাবে না, এমন বিধান যুক্ত করে অ্যাটকোকে পুনরায় নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রতিযোগিতামূলক গণমাধ্যম শিল্পে দক্ষ কর্মীদের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে উদ্ভাবন, পেশাগত বিকাশ ও সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি চাকরি পরিবর্তন নিয়ে ভয়, অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ দীর্ঘমেয়াদে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গণমাধ্যমকর্মী ও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, পেশাদারিত্ব ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলেও উল্লেখ করেছে দলটি। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির আহ্বায়ক রিদওয়ান হাসান এবং সদস্য সচিব সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর।
এনআর/
