বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের সংস্কারসমূহ যাতে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত, পর্যায়ভিত্তিক এবং বাস্তবায়নযোগ্য হয়, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন করে তিন বছর মেয়াদি সংস্কার কর্মসূচির কাজ শুরু করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
সোমবার (২৫ মে) রাতে এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এর আগে গত ২১ মে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সম্মতি তৈরি হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওই ভার্চুয়াল বৈঠকে বাংলাদেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান আইএমএফ কর্মসূচির অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে অত্যন্ত গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং কাঠামোগত সংস্কারের ধারা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান আইএমএফ কর্মসূচিটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রেক্ষাপটে গ্রহণ করা হয়েছিল, যার কারণে পরবর্তীতে উদ্ভূত দেশীয় বাস্তবতা, রাজনৈতিক অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার ফলে কিছু সংস্কার সুনির্দিষ্ট সময়ে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও বাস্তবসম্মত ও ধাপে ধাপে এগোনোর পদ্ধতিকেই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার প্রকৃত প্রেক্ষাপটকে প্রতিফলিত করে। এই প্রসঙ্গের ওপর ভিত্তি করেই তিনি নবনির্বাচিত সরকারের অধীনে নতুন করে তিন বছরের একটি বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের প্রস্তাব করেন, যা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাস্তবসম্মত সংস্কারকে গতিশীল করবে।
সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক গ্রুপ-আইএমএফ বসন্তকালীন বৈঠকের আলোচনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার ওই আলোচনার ভিত্তিতে তাদের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা ইতিমধ্যেই সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।
আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্ক বৈঠকে বাংলাদেশের নতুন সংস্কার উদ্যোগ এবং এই নতুন কর্মসূচি গ্রহণের প্রচেষ্টাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও টেকসই উন্নয়নে আইএমএফের গঠনমূলক ও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা সব সময়ের মতোই অব্যাহত থাকবে।
বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রস্তাবিত এই নতুন সংস্কার কর্মসূচির সফলতা নিশ্চিতে উভয় পক্ষই দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন এবং দ্রুত নতুন কর্মসূচি প্রণয়নের কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
