আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: আফগানিস্তানের বহুল আলোচিত ‘মেস আইনাক’ তামা খনি প্রকল্পের বাস্তব কাজ অবিলম্বে শুরু করার জন্য চুক্তিধারী চীনা কোম্পানিকে আবারও জোরালো তাগিদ দিয়েছে তালেবান সরকার। দেশটির খনি ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, এই মেগা প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শুরু করার ক্ষেত্রে এখন আর কোনো নিরাপত্তা বা কারিগরি বাধা নেই।
রোববার (১৪ জুন) মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশীয় বিষয়ক কনসাল জেনারেল, কাবুলে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত এবং মেস আইনাক তামা প্রকল্পের ঠিকাদার কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এই তাগিদ দেওয়া হয়। তালেবানের খনি ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের নীতি ও কর্মসূচি বিষয়ক উপমন্ত্রী আবদুর রহমান কানিত আফগান সরকারের পক্ষে এই বৈঠকে নেতৃত্ব দেন।
বৈঠকে চীনা প্রতিনিধিদল প্রকল্পের অগ্রগতি, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং তাদের বিভিন্ন চাহিদার কথা তুলে ধরেন। তবে ঠিক কী কী কারণে কাজ থমকে আছে, সে বিষয়ে তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। উপমন্ত্রী আবদুর রহমান কানিত বলেন, মেস আইনাক প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করার ক্ষেত্রে বর্তমানে কোনো ধরনের বাধা বা সমস্যা নেই। চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদার কোম্পানির উচিত তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে অবিলম্বে মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু করা।
লোগার প্রদেশের মেস আইনাক তামা খনি প্রকল্পটি প্রায় দুই দশক ধরে চীনা কোম্পানিগুলোর সদিচ্ছার অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে। ৩০ বছর মেয়াদি এই ঐতিহাসিক চুক্তিটির আওতায় চীনের ৩.৪ বিলিয়ন (৩৪০ কোটি) ডলার বিনিয়োগ করার কথা রয়েছে। সাবেক আশরাফ গনি সরকারের আমলে তীব্র নিরাপত্তা সংকট, আফগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চীনা কোম্পানির নানা মতবিরোধ এবং খনি এলাকায় প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কায় এই প্রকল্পের বাস্তব কাজ বারবার থমকে যায়।
তালেবান কর্তৃপক্ষ আশা করেছিল, ক্ষমতা গ্রহণের পর দ্রুতই এই খনির কাজ শুরু হবে এবং এর রাজস্ব দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বাজেটে বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই মাসে চীনা কূটনীতিক এবং তালেবান যৌথভাবে প্রকল্পটির কাজ চালুর ঘোষণা দেয় এবং ২০২৬ সালকে (চলতি বছর) তামা উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে কাবুলে চীনা রাষ্ট্রদূত এবং খনি সংশ্লিষ্ট চীনা কোম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে তালেবান কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বৈঠক প্রমাণ করে যে, চীনা পক্ষ এখনো চুক্তির শর্ত পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। এর আগে গত ১৬ মে এবং তারও আগে গত বছরের নভেম্বর মাসেও তালেবান মন্ত্রীরা কাজ দ্রুত করার জন্য চীনা প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছিলেন। সে সময় চীনা কোম্পানিগুলো কাজ শুরুর আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
অর্থনৈতিক হিসাব অনুযায়ী, মেস আইনাক তামা খনিতে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টন তামার মজুদ রয়েছে, যা থেকে প্রতি বছর ২৫০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্ব আয় সম্ভব। এছাড়া পুরো চুক্তি মেয়াদে আরও প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রকল্প চালু হলে আফগানিস্তানে হাজার হাজার প্রত্যক্ষ এবং ১০ হাজারেরও বেশি পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির বেকারত্ব দূরীকরণে বড় ভূমিকা রাখবে। সূত্র: আফগানিস্তান ইন্টারন্যাশনাল
অনুবাদ: আব্দুস সামাদ আজিজ
হাআমা/
