বশির আহম্মদ মোল্লা (নরসিংদী প্রতিনিধি): নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আনুষ্ঠানিক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আলহাজ্ব আব্দুল কাদির। তিনি আমিরগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি এবং রায়পুরার সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আব্দুল আলী মৃধার একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকায় এলাকায় একজন পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব ব্যক্তি হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার আগেই আব্দুল কাদির ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন সময় এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও আব্দুল কাদির একজন সুপরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিত। ছাত্রদলের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে একাধিক মামলার আসামিও হতে হয়েছে। তবে তার সমর্থকদের দাবি, এই মামলাগুলোর সিংহভাগই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং গায়েবি মামলা। নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমানে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গণসংযোগ, উঠান বৈঠক এবং সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের কাছে নিজের অতীত সেবামূলক কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরার কাজ শুরু করেছেন।
চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুল কাদির তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ব্যক্ত করে বলেন, তিনি সমাজের টেকসই পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে চান। আমিরগঞ্জ ইউনিয়নকে একটি আদর্শ, আধুনিক, উন্নত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলে সরকারি বরাদ্দের সুষম বণ্টনের পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকেও এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখবেন। বিশেষ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।
তার ঘোষিত উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে প্রধানতম হচ্ছে ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা সড়কগুলো সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বর্ষা মৌসুমের জলাবদ্ধতা নিরসন। এছাড়া স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজার ব্যবস্থার আধুনিকায়নের কথাও তিনি জানিয়েছেন। শিক্ষাখাতের উন্নয়নে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমাতে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি স্থানীয় বেকার যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে কুটির শিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে তার।
সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আব্দুল কাদির জানান, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং ওএমএস কার্ডসহ সরকারের দেওয়া বিভিন্ন সামাজিক সুবিধা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে একটি মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে যুবসমাজকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি ইউনিয়নজুড়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের অঙ্গীকার করেছেন এই প্রার্থী। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন সফল ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তার এই জনমুখী ভাবনা আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
টিএইচএ/
