নিজস্ব প্রতিবেদক:: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পল্টন জোনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব প্রাঙ্গণে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি, তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ.সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সালেহ উদ্দীন কাজী এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক।
তিনি বলেন, চব্বিশের বিপ্লব এক মাস বা এক বছরে সংঘটিত হয়নি। বরং দীর্ঘ এক যুগের লড়াই-সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাধনার ধারাবাহিকতায় জুলাই অভ্যুত্থানের পথ তৈরি হয়েছে। চব্বিশের ভিত্তি রচিত হয়েছিল ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে।
তিনি আরও বলেন, আলেম সমাজ রক্ত দিয়ে এদেশের পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করেছে। ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর, ২০২১ সালের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আন্দোলন এবং দীর্ঘ কারাবরণের পথ পেরিয়েই জুলাই এসেছে। স্কুল-মাদ্রাসার বিভাজন ভুলে ফ্যাসিবাদ, বৈষম্য ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পূর্বমুহূর্তে বিএনপি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি অংশের মাধ্যমে অন্তহীন প্রতারণা করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যখন সব রাজনৈতিক দল জুলাই সনদে স্বাক্ষরের জন্য একত্রিত হয়, তখন সবার অগোচরে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়। যেখানে বলা হয়, নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসা দল তাদের নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারবে। এই বিষয়টি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জুলাই যোদ্ধা ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল অবগত ছিল না।
তিনি বলেন, সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন হবে, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নেওয়া হবে এবং সেই রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়ন করবে—এটাই ছিল ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত।
তিনি আরও বলেন, জুলাই যোদ্ধারা গণপরিষদ গঠন করে সংবিধান পুনর্লিখনের দাবি তুলেছিল। পরবর্তীতে সংস্কারের দাবিতে ঐকমত্য তৈরি হয়। আমরা সবাইকে নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সরকার গঠনের পর সংসদে দাঁড়িয়ে তাদের মুখপাত্র সালাহউদ্দিন সাহেব বললেন, সেদিন আমরা সালিশ মেনে ছিলাম ঠিকই কিন্তু মনে মনে মানি নাই; আমরা শুধু মেনেছিলাম যেন নির্বাচন করে ক্ষমতায় যেতে পারি।
তিনি বলেন, যদি সব রাজনৈতিক দল এই দাবি থেকে পিছিয়েও যায়, তাহলে প্রয়োজনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একাই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য জনগণের দুয়ারে দুয়ারে যাবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে ফ্যাসিবাদ পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ পাবে। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ মেনে নেওয়া হবে না।
সমাবেশে যুবনেতা মাহদি হাসান সিকদারের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা ফয়সাল আহমদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ছানাউল্লাহ আমিনী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ রাকীবুল ইসলাম, যুব মজলিস ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং খেলাফত ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগর পূর্বের সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি মাওলানা আতিকুল্লাহ, মাওলানা ইমদাদ আশরাফ, সহসাধারণ সম্পাদক মাওলানা রিজওয়ান হুসাইন, মাওলানা ইমদাদ বিন ছায়েনুদ্দীন, মুহাম্মদ জাবেদ হুসাইন, প্রশিক্ষণ সম্পাদক হাফেজ দিলাওয়ার হুসাইন, প্রচার সম্পাদক মাওলানা মাহমুদুল হাসান সাগর এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের অফিস সম্পাদক এইচ এম খোকনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
হাআমা/
