আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধা হিজবুল্লার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দেশটিতে আবারও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শনিবার (২০ জুন) ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় লেবাননে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) বলেছে, শুক্রবার রাতভর এবং শনিবার সকাল পর্যন্ত নাবাতিহ এলাকাজুড়ে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে বেশকিছু আবাসিক ভবন ও ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। পাশাপাশি ভোরের দিকে নাবাতিহ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক গোলাবর্ষণ করেছে ইসরায়েল।
এর আগে শুক্রবার এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স বলেছে, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। আজ থেকেই এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।
ইসরায়েলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং হিজবুল্লাহর দুটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। মার্কিন ওই কর্মকর্তা বলেন, স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।
ইরানের মদতপুষ্ট হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের পুরোনো শত্রু। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল এই গোষ্ঠীটির ঘাঁটি। ২০২৪ সালে হিজবুল্লাহকে নির্মূল করতে প্রথমবারের মতো লেবাননে সর্বাত্মক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী তথা আইডিএফ। ইসরায়েলি বাহিনীর সেবারের অভিযানে নিহত হন হিজবুল্লার শীর্ষ নেতা হাসান নাসরুল্লাহসহ গোষ্ঠীটির প্রথম সারির অধিকাংশ নেতা এবং কমান্ডার। ফলে তছনছ হয়ে যায় গোষ্ঠীটির সাংগঠনিক চেইন অব কমান্ড। এছাড়া হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনাগুলো ও অস্ত্রাগারেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল সেবার।
টানা ৯ মাস অভিযান চালানোর পর ২০২৫ সালের জুনের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতিতে যায় লেবানন-ইসরায়েল। তবে এই যুদ্ধবিরতি ছিল ভঙ্গুর। কারণ যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও মাঝেমাঝেই দক্ষিণ লেবাননে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে আইডিএফ। এর জবাবে হিজবুল্লাহও পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তার দু’দিন পর যুদ্ধবিরতি ভেঙে লেবাননে হামলা শুরু করে ইসরায়েলও। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ইসরায়েলি বাহিনীর সাড়ে ৩ মাসের অভিযানে এ পর্যন্ত লেবাননে নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ৯১২ জন মানুষ। তাদের মধ্যে ৭৪৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী, নারী ও শিশু আছে।
এনআর/
