রাশিয়ার সহায়তায় তালেবানের বিশেষ বাহিনী ‘হাবতি ইউনিট’

by hsnalmahmud@gmail.com

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসআইএস-খোরাসানের (আইএস-কে) তৎপরতা নির্মূল এবং দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে তালেবান সরকার। সর্বোচ্চ নেতা মোল্লা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার সরাসরি তত্ত্বাবধানে ‘হাবতি ইউনিট’ নামে ৮ হাজার সদস্যের একটি অত্যাধুনিক বিশেষ বাহিনী গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিশ্বশক্তি রাশিয়া এই বিশেষ বাহিনীকে অর্থায়ন, উন্নত সামরিক সরঞ্জাম এবং কৌশলগত প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল দুটি সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আফগানিস্তান ইন্টারন্যাশনাল’-কে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞাপন
banner

সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্য এশিয়ায় উগ্রবাদ ও আইএস-কে’র মতো বৈশ্বিক হুমকি রুখতে রাশিয়া এবং আফগানিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় এবং ইতিবাচক অগ্রগতি।

সরাসরি সর্বোচ্চ নেতার কমান্ডে পরিচালিত হবে বিশেষ এই বাহিনী

সূত্রমতে, নবগঠিত ‘হাবতি ইউনিট’ তালেবানের প্রচলিত নিরাপত্তা কাঠামোর বাইরে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও বিশেষভাবে কাজ করবে। এটি সরাসরি আমিরুল মুমিনিন মোল্লা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার নির্দেশনায় পরিচালিত হবে। বাহিনীটির মূল লক্ষ্য হবে ডুরান্ড লাইন (আফগান-পাক সীমান্ত) বরাবর কড়া নজরদারি, চোরাচালান রোধ এবং আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে আইএস-খোরাসানের যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন করা।

বর্তমানে এই ইউনিটের ৪ হাজার সদস্য কান্দাহারের ঝিরি জেলায় চূড়ান্ত নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন এবং বাকি ৪ হাজার সদস্যকে কাবুলে সুসংগঠিত করার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

রাশিয়ার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সামরিক সহায়তা

তিন সপ্তাহ আগে রাশিয়ার সাথে আফগানিস্তানের যে সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, এই উদ্যোগকে তারই বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, এই বিশেষ বাহিনীকে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি, আধুনিক সীমান্ত টহল এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষ করে তুলবে রুশ সামরিক প্রশিক্ষকরা।

পাশাপাশি, ‘হাবতি ইউনিট’-এর সদস্যদের জন্য অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, নাইট ভিশন ইকুইপমেন্ট (রাত্রীকালীন যুদ্ধ সরঞ্জাম), সামরিক যান, হেলিকপ্টার ও ড্রোনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিশেষ ও ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালনের কারণে এই ইউনিটের কর্মকর্তাদের সাধারণ সেনাসদস্যদের চেয়ে উচ্চতর বেতন ও বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় নতুন আশা

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে যেন কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে, তালেবান সরকারের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ‘হাবতি ইউনিট’ অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। রাশিয়ার মতো একটি পরাশক্তির প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সমর্থন এই অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসবাদ দমনের লড়াইকে আরও শক্তিশালী ও বেগবান করবে। সূত্র: আফগানিস্তান ইন্টারন্যাশনাল

অনুবাদ: আমানুল্লাহ নাবিল

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222