আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের তামিলনাড়ু বিধানসভার বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয়কে লক্ষ্য করে ব্যক্তিগত আক্রমণ চালিয়েছেন। বিধানসভায় উত্তপ্ত বিতর্কের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে উদয়নিধি মন্তব্য করেন, পুরো তামিলনাড়ু রাজ্য চেন্দালপট্টু আদালতে ‘স্বামীর খোঁজে স্ত্রীর ঘোরার গল্প’ খুব ভালো করেই জানে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি বিজয়ের স্ত্রী সঙ্গীতা সোর্নালিঙ্গমের বিবাহবিচ্ছেদের মামলার দিকেই ইঙ্গিত করে, যা তিনি দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটাতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চেন্দালপট্টু পারিবারিক আদালতে দায়ের করেছিলেন। উদয়নিধি বলেন, বিরোধী দলগুলোর উসকানিতে কৃষকরা আন্দোলন করছেন—মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্য অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি কৃষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছেন। নিজের ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে উদয়নিধি বিজয়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপাতত এসব ছদ্মবেশ ভুলে যান।”
এর আগে বিধানসভার অধিবেশনে অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া মুখ্যমন্ত্রী বিজয় ক্ষমতাসীন ডিএমকে (DMK) জোটের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ পরিচালনা করেন। তিনি ঘোষণা দেন, ‘দলীয় তহবিল সংগ্রহ’-এর নামে জনগণের যে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে, তার সরকার তা উদ্ধার করবে। বিজয়ের এই মন্তব্যের পরই বিরোধী দলীয় বেঞ্চগুলোতে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। উদয়নিধি স্ট্যালিন তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ জানিয়ে স্পিকারের কাছে পয়েন্ট অব অর্ডার দাবি করেন এবং বলেন যে প্রমাণ ছাড়া মুখ্যমন্ত্রী এমন অভিযোগ করতে পারেন না। তবে স্পিকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ নাকচ করে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে তার বক্তব্য শেষ করার অনুমতি দেন। এরপরই বিজয় তার বক্তব্যে সাবেক ডিএমকে সরকারের সমালোচনা করে বলেন, তার দল টিভিকে (TVK) কখনোই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে না এবং সরকারি কোষাগার লুট করতে দেবে না। এ সময় তিনি স্পিকারের অনুমতি নিয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিনের একটি পুরোনো পরিচিত হাত নাড়ার অঙ্গভঙ্গি নকল করে দেখান, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
অধিবেশন শেষে বিধানসভার বাইরে এসে উদয়নিধি স্ট্যালিন মুখ্যমন্ত্রীর এই ভাষণকে ‘সোশ্যাল মিডিয়ার রিলস’ বলে উপহাস করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টিভিকে তামিলনাড়ু বিধানসভাকে সিনেমা থিয়েটার বানিয়ে ফেলেছে। সেখানে এখন হুইসেল বাজানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর পুরো ৩০ মিনিটের বক্তব্যটি ছিল কৃত্রিম, সাজানো এবং স্ক্রিপ্টেড। তিনি বিধানসভার ভেতরেও অভিনয় শুরু করেছেন, স্পিকার ‘অ্যাকশন’ এবং ‘কাট’ বলছেন। উদয়নিধি আরও যোগ করেন, যেভাবে পরিস্থিতি চলছে, তাতে খুব শীঘ্রই বিধানসভার ভেতরে ক্যারাভান, মেকআপ আর্টিস্ট এবং স্ট্যান্ট মাস্টারদের আনাগোনা শুরু হবে এবং তারা পবিত্র এই সংসদকে শুটিং স্পটে পরিণত করবে। এই ঘটনার পর তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ডিএমকে এবং টিভিকে-র মধ্যকার দ্বন্দ্ব এক নতুন মাত্রায় রূপ নিয়েছে।
তথ্যসূত্র: এনডি টিভি
টিএইচএ/
