তাফসীরের নাম: আল-ইকলিল আলা মাদারিকিত তানজিল (الإكليل على مدارك التنزيل)
তাফসীরকার: হাফেজ শায়খ মুহাম্মদ আবদুল হক বিন শাহ মুহাম্মদ ইলাহাবাদী (রহ.)
গ্রন্থ পরিচিতি : সাত খণ্ডে সমাপ্ত এই বৃহৎ ও অনন্য তাফসীরগ্রন্থটি আনুমানিক ১৩৩০ হিজরিতে প্রকাশিত হয়। ‘মাতবাউল ইকলিলুল মাতাবি’ নামক প্রকাশনী থেকে এটি প্রথম আলোর মুখ দেখে। প্রায় আড়াই হাজার (২৫০০) পৃষ্ঠার এই তাফসীরটি শায়খ ইলাহাবাদী অত্যন্ত সহজ, সরল ও সাবলীল আরবি ভাষায় রচনা করেছেন। কুরআনের জটিল শব্দগুলোর চমৎকার ও প্রাঞ্জল বিশ্লেষণ রয়েছে এই গ্রন্থে।
তাফসীরের বৈশিষ্ট্য ও পদ্ধতি : রাবী বা সাহাবীদের পরিচিতি: তাফসীরে কোনো সাহাবীর নাম উল্লেখ হলে লেখক অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তাঁর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও বিবরণ তুলে ধরেছেন।
কাসাসুল কুরআন: কুরআনে বর্ণিত আম্বিয়া কেরাম ও বিভিন্ন জাতির ঐতিহাসিক গল্প বা ঘটনাবলি (কাসাসুল কুরআন) বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
ফেরেশতাদের বিবরণ: হযরত জিবরাইল ও মিকাইল (আ.)-সহ প্রধান প্রধান ফেরেশতাদের দায়িত্ব ও কার্যাবলির বিশদ বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
ফিকহী আলোচনা ও আহকাম : আহকাম বা বিধিবিধান সম্পর্কিত আয়াতগুলোর ব্যাখ্যায় তিনি ফিকহী দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করেছেন। বিভিন্ন মুজতাহিদের মতামত পর্যালোচনার পর ‘রাজেহ’ বা সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মতটি প্রাধান্য দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি মোল্লা জিয়ূন (রহ.)-এর ‘তাফসীরাতে আহমদিয়া’, বিখ্যাত ফিকহ গ্রন্থ ‘হেদায়া’ ও অন্যান্য প্রামাণ্য কিতাবের সহায়তা নিয়েছেন। যেমন—“হাফিজু আলাস সালাওয়াত” (নামাজসমূহের প্রতি যত্নবান হও) আয়াতের বিস্তারিত ব্যাখ্যায় তিনি ‘সালাতুল আসর’ বা আসরের নামাজকে ‘সালাতে ওসতা’ হিসেবে প্রাধান্য দিয়েছেন।
অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের আলো : হযরত হিজকিল ও হযরত জারজিস (আ.)-এর বর্ণনায় তিনি প্রাচীন গ্রন্থাবলী ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের (ইসরাঈলী রেওয়ায়েত বা ঐতিহাসিক সূত্র) আলোকেও পর্যালোচনা করেছেন।
ব্যবহৃত উৎস ও হাশিয়া : শায়খ ইলাহাবাদী এই গ্রন্থ রচনায় সমকালীন ও প্রাচীন বহু বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
তাফসীরে জালালাইন
তাফসীরে নিশাপুরী
তাফসীরে বায়যাবী
তাফসীরাতে আহমদিয়া
তাফসীরে কাবীর
গ্রন্থের পাদটীকায় (হাশিয়া বা প্রান্তটীকা) তিনি মূল গ্রন্থ ‘মাদারিক’-এর ইবারত (মূল টেক্সট) উল্লেখ করে তার চমৎকার ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছেন।
তথ্যসূত্র:
১. হিন্দুস্থানী মুফাসসিরীন আওর উনকী আরবী তাফসীরে
২. ইন্টারনেট
লেখক : প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, আল কুরআন গবেষণা কেন্দ্র।
