ক্রীড়া ডেস্ক :: ঘানা এবার দিয়েছে বড় হানা। রুখে দিলো ইংল্যান্ডকে। কার্লোস কুইরোজ (ঘানার কোচ) আবারও তার কৌশলগত দক্ষতার প্রমাণ দিলেন। জিলেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার বিশ্বকাপের ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছে। প্রাণহীন ও আকর্ষণহীন এই ম্যাচে জুড বেলিংহ্যাম, অ্যান্থনি গর্ডন কিংবা হ্যারি কেইন কেউই নিজেদের সেরাটা দিতে পারেননি। ফলে গ্রুপের শীর্ষস্থান দখলের সুযোগ হাতছাড়া করেছে থমাস টুখেলের দল।
এই ড্রয়ের ফলে ইংল্যান্ডের পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে উঠেছে। ক্রোয়েশিয়া তাদের ম্যাচগুলো জিতলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পানামার বিপক্ষে ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে ইংল্যান্ডের ভাগ্য।
দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট করে নিয়ে ইংল্যান্ড শীর্ষে, ঘানা দুইয়ে আছে। এক ম্যাচ করে খেলা পানামা ও ক্রোয়েশিয়া এখনও পয়েন্ট পায়নি।
ম্যাচে প্রায় ৭৯ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ১৯টি শট নিয়ে কেবল তিনটি লক্ষ্যে রাখতে পারে ইংল্যান্ড। ঘানার গোলরক্ষকের তেমন কোনো পরীক্ষাই নিতে পারেনি তারা। ঘানার দুই শটের একটি লক্ষ্যে ছিল।
এ দিন মাঠে নেমে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ইংল্যান্ডের হয়ে ম্যাচ খেলার ফিফটি করেন জুড বেলিংহ্যাম (২২ বছর, ৩৫৯ দিন)। তিনি ছাড়িয়ে যান ওয়েইন রুনিকে (২৩ বছর, ১৫৯ দিন)।
বৃষ্টিভেজা ও মেঘলা দিনে বোস্টনে ৬৭ হাজারেরও বেশি সমর্থকের উপস্থিতিতে জিলেট স্টেডিয়াম যেন সাময়িকভাবে ওয়েম্বলিতে পরিণত হয়েছিল। ইংলিশ সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি দলের জন্য ছিল বড় অনুপ্রেরণা।
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে রক্ষণভাগের দুর্বলতায় অসন্তুষ্ট টুখেল এই ম্যাচে দুইটি পরিবর্তন আনেন। জন স্টোনস ও ও’রাইলির পরিবর্তে দলে সুযোগ পান মার্ক গুয়েহি ও স্পেন্স। বিশেষ করে গুহি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে রক্ষণভাগের নেতৃত্বের দাবিদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তার নেতৃত্বে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ পুরো ম্যাচে দৃঢ়তা দেখায়।
তবে আক্রমণে ছিল হতাশা। ম্যাচের শুরু থেকেই ঘানা শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বলের দখল বেশি থাকলেও ইংল্যান্ড গোলের দেখা পায়নি। প্রথমার্ধে একমাত্র উল্লেখযোগ্য সুযোগটি আসে ম্যাচের ১৫ মিনিটের পর, যখন ডেকলান রাইসের দূরপাল্লার শক্তিশালী শট অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
ঘানার মিডফিল্ডার থমাস পার্টি দলের প্রেসিং ও রক্ষণভাগকে দারুণভাবে সামলান। প্রথমার্ধে ইংল্যান্ড মোট ছয়টি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।
