ক্রীড়া ডেস্ক :: সব বাধা উপেক্ষা করে বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী দেশকে রুখে দিলো ইরান। মাঠের বাইরের রাজনৈতিক জটিলতা, ভিসা নিয়ে নাটকীয়তা আর প্রস্তুতির তীব্র ঘাটতি। সব প্রতিকূলতাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে সবুজগালিচায় বীরত্বের এক নতুন গল্প লিখল ইরান। লস অ্যাঞ্জেলসের মঞ্চে সব বাধাবিপত্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইউরোপীয় পরাশক্তিবেলজিয়ামকে স্তব্ধ করে দিয়েছে এশিয়ান সিংহরা। মাঠের বাইরের মানসিক ধকল ভুলে লড়াকু ফুটবলের এক অনন্য নজির গড়ে গ্রুপ‘জি’-এর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের ৯০ মিনিটের লড়াই শেষে গোলশূন্য সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে দুই দলকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই তারকাখচিত বেলজিয়াম নিজেদের শক্তির জানান দিয়ে মাঠের দখল নেয়। একের পর এক আক্রমণ সাজিয়ে তারাইরানের রক্ষণভাগকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করে। পুরো প্রথমার্ধে ইরানের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে বেলজিয়ামের ফুটবলাররা মোট ১১টিশট নেন, যার মধ্যে ৪টি ছিল সরাসরি অন-টার্গেট। তবে ম্যাচের আগে ইরানি কোচ আমির গালিনোই যে ডিফেন্সিভ প্রতিরোধের ছককষেছিলেন, তার শিষ্যরা মাঠে হুবহু তা-ই করে দেখিয়েছেন। বেলজিয়ামের প্রতিটি আক্রমণই আছড়ে পড়েছে ইরানি ডিফেন্সেরইস্পাতকঠিন দেওয়ালে।
বেলজিয়াম বল দখলে এগিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও নিশ্চিত সুযোগটি তৈরি করেছিল ইরানই। ম্যাচের ২১তমমিনিটে স্রোতের বিপরীতে এক দুর্দান্ত কাউন্টার-অ্যাটাক থেকে বল পান ইরানি ডিফেন্ডার হোসেইন কানানি। ডি-বক্সের ভেতর বলনিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে তিনি যে শটটি নিয়েছিলেন, তা নিশ্চিত গোলের দিকেই যাচ্ছিল। কিন্তু বেলজিয়ামের ত্রাতা হয়ে দাঁড়ানবিশ্বমানের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। বাজপাখির মতো ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে বল আটকে দিয়ে বেলজিয়ামকে রক্ষা করেন তিনি।
এর কিছুক্ষণ পর, ম্যাচের ২৭তম মিনিটে আবারও বেলজিয়াম শিবিরে কাঁপন ধরায় ইরান। চমৎকার এক ফ্রি-কিক থেকে বল জালেজড়িয়ে উল্লাসে মেতে উঠেছিল পুরো দল। তবে লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলায় সেই গোলটি বাতিল হয়ে যায় এবং লিড নেওয়াথেকে বঞ্চিত হয় এশিয়ান পরাশক্তিরা। শেষ পর্যন্ত গোগোলশূন্য নিয়ে বিরতিতে যায় উভয় দল।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেই আসল রোমাঞ্চের শুরু। ৬৬ মিনিটে বেলজিয়াম শিবিরে বড় ধাক্কা লাগে, সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েনডিফেন্ডার নাথান এনগোয়। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া বেলজিয়াম বাধ্য হয়েই রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেয়।
অন্যদিকে, একজন বেশি থাকার পূর্ণ সুবিধা নিতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ বাড়ায় ইরান। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বেলজিয়াম দু-একটি পাল্টাআক্রমণের চেষ্টা করলেও ইরানের জমাট রক্ষণ আর গোলরক্ষকের দেওয়ালে তা প্রতিহত হয়। ফলে, গোলশূন্য ড্রয়ের হতাশা নিয়েই মাঠছাড়তে হয় দুই দলকে।
পরপর দুই ম্যাচ ড্র করায় এখন উভয় দলের জন্যই নকআউট পর্বের সমীকরণ বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াল।
অন্যদিকে, মেক্সিকোর তিজুয়ানা থেকে লস অ্যাঞ্জেলসে এসে প্রস্তুতির জন্য মাত্র ১৬ ঘণ্টাও সময় পায়নি ইরান। অথচ সেই ক্লান্তি ভুলেবেলজিয়ামের মতো দলকে যেভাবে প্রথম ভাগে আটকে রাখা গেছে, তা দ্বিতীয়ার্ধে ইরানি শিবিরের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে তাবলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, দ্বিতীয়ার্ধের ফুটবল যুদ্ধে শেষ হাসি কারা হাসে!
