নজরুল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী

by Abid vs36

৩৬নিউজ ডেস্ক: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল অতীত ইতিহাস নন, বরং তিনি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার চিরন্তন উৎস এবং আমাদের যাপিত জীবনের এক অনিবার্য অংশ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কক্ষে ভার্চুয়ালি (জুম প্ল্যাটফর্ম) আয়োজিত এক বিশেষ সভায় বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কালকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন
banner

কাজী নজরুল ইসলামকে বিদ্রোহী, প্রেম, বিরহ, তারুণ্য ও ঐতিহ্যের কবি হিসেবে ভূষিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি রাষ্ট্র এবং সমাজে এমন কিছু ক্ষণজন্মা মানুষের জন্ম হয়, যারা আমাদের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক জীবনসহ সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মনোজগতে প্রবল প্রভাব বিস্তার করেন। কবি নজরুল তেমনই একজন ব্যক্তিত্ব, যার প্রভাব কৈশোর থেকে পরিণত বয়স পর্যন্ত আমাদের জীবনের প্রতিটি স্তরে অপরিসীম। পরাধীন ও পর্যুদস্ত জাতির ভাগ্যাকাশে তাঁর আবির্ভাব ছিল এক আলোকবর্তিকার মতো। পরাধীনতা, জুলুম, শোষণ, বৈষম্য ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কবির কলম শানিত অস্ত্রের মতো কাজ করেছে। বিপ্লব-বিদ্রোহের পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধের গান কিংবা ভজন-কীর্তন, প্রেম ও প্রকৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রে নজরুলের প্রকাশ ছিল সম্পূর্ণ শুদ্ধ। অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তিনি আমাদের মূল অনুপ্রেরণা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে কবির সৃষ্টিশীলতাই ছিল প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের প্রধান ভাষা। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি মনে করি, জাতীয় কবি হলেন ‘বাংলাদেশের মন’। তিনি আজীবন সাম্যের গান গেয়েছেন, যেখানে ধর্ম-বর্ণের কোনো ভেদাভেদ নেই। বর্তমান সরকারও এমন এক বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে প্রতিটি মানুষ এবং প্রতিটি প্রাণী নিরাপদে থাকবে। নতুন প্রজন্মের ওপর তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান জটিল বাস্তবতায় উদীয়মান প্রজন্মকে সঠিক পথ দেখাতে নজরুলের নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সাহিত্যকে আলোকবর্তিকা হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। একই সাথে তিনি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মতো সাধারণ অনুষ্ঠানের উদাহরণ টেনে নজরুল বর্ষের অনুষ্ঠানে আমলাদের চেয়ে নজরুল গবেষক ও অনুরাগীদের বেশি প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে দেশব্যাপী নজরুল বিশেষজ্ঞ ও নজরুলপ্রেমীদের নিয়ে গঠিত ‘নজরুল বর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটি’র মাধ্যমে বছরব্যাপী সাহিত্য সম্মেলন, গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক উৎসব ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন সফল করার আহ্বান জানানো হয়। পরিশেষে কবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বছরব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। ভার্চুয়ালি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষক ও শিল্পীরা যুক্ত ছিলেন এবং নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট ও লোগো উন্মোচন করা হয়। সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী)।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222