৩৬নিউজ ডেস্ক: সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের অভ্যন্তরে এবং ভারতের উজানে একটানা অতিভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। এর ফলে চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর বিভাগের প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যেই বান্দরবান ও কক্সবাজারের দুটি স্টেশনে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দেশের আবহাওয়া পরিস্থিতি ও নদ-নদীর প্রবাহ বিশ্লেষণ করে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের অন্তত পাঁচটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী ইমন কল্যাণ দাস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশের বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমানে বান্দরবান স্টেশনে সাঙ্গু নদীর পানির স্তর বিপৎসীমার ৯৬ সেন্টিমিটার এবং লামা স্টেশনে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দেশের পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে ৬৯টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গেও ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার মধ্যে মাওসিনরামে সর্বোচ্চ ১৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়।
আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগসহ সংলগ্ন ভারতীয় রাজ্যগুলোতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের সাঙ্গু, মাতামুহুরী, গোমতী, মুহুরি, ফেনী ও হালদা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বান্দরবান ও কক্সবাজারে বর্তমান বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। একই সাথে ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে এবং নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অন্যদিকে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের প্রধান নদীগুলোর পানিও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। মনু, ধলাই, কংস, সোমেশ্বরী ও যাদুকাটা নদীর পানি বাড়ায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। সুরমা নদীর পানিও দ্রুত বেড়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
টিএইচএ/
