রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৫ নম্বর ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বালুচরা এলাকায় টানা অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি ধসে এবং একটি বড় গাছ উপড়ে পড়ে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের দুই পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের বিভিন্ন ইউনিট ও স্থানীয়দের দীর্ঘ ৪ ঘণ্টার যৌথ প্রচেষ্টার পর সড়কটি পরিষ্কার করা হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর থেকে সব ধরনের যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর বিকেল ৩টার দিকে সড়কটি সম্পূর্ণ সচল হয়। কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার দেলোয়ার হোসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মোহাম্মদ সরোয়ার সড়ক সচল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রথমে রাস্তা আংশিক পরিষ্কার করে হালকা যানবাহন চলাচলের সুযোগ করে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে বিকেলের দিকে সড়কে সব ধরনের ভারী যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে পাহাড় ধসের ঘটনার পরপরই কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা বন বিভাগ ও স্থানীয় সাধারণ জনগণের তাৎক্ষণিক সহায়তায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে রাস্তা থেকে গাছ কেটে ও মাটি সরিয়ে যান চলাচল সচল করার জোর চেষ্টা চালান।
পরবর্তীতে উদ্ধারকাজ আরও দ্রুত করতে সেখানে যোগ দেয় বাংলাদেশ স্কাউটস নৌ অঞ্চলের একটি সেচ্ছাসেবক দল। আঞ্চলিক উপ-কমিশনার ও নৌবাহিনী কলেজ কাপ্তাইয়ের উপাধ্যক্ষ এম জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে কাপ্তাই জেলা নৌ স্কাউটসের ১৫ জন নৌ রোভার দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সড়ক পরিষ্কার, মাটি অপসারণ ও ট্রাফিক সচল করার কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন স্বয়ং ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধারকাজের সার্বিক তদারকি করেন এবং উদ্ধারকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেন। বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাইয়ের এই সড়কটিতে যাতায়াতকারীদের পাহাড় ধসের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
টিএইচএ/
