আকারে দানবীয় হলেও ভরের বিচারে অত্যন্ত পাতলা অর্থাৎ অনেকটা ‘ফাঁপা’ প্রকৃতির দুটি বিরল গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন মহাকাশবিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইটের (টেস) সংগৃহীত তথ্যে স্থান-কালের তরঙ্গ ব্যবহার করে দূরবর্তী নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণরত এই গ্রহ দুটি শনাক্ত করা হয়েছে। প্রচলিত চেনা নিয়মের বাইরে গিয়ে এবারই প্রথম এ ধরনের নতুন গ্রহের সন্ধান মিলল।
সাধারণত টেস স্যাটেলাইট নক্ষত্রের খুব কাছাকাছি অবস্থান করা গ্রহগুলো আবিষ্কার করে থাকে। তবে নতুন আবিষ্কৃত এই গ্রহ নিজের নক্ষত্র থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে অনেকটা আমাদের সৌরজগতের বৃহস্পতি গ্রহের মতো দূরবর্তী কক্ষপথে ঘুরছে। এ বিষয়ে নিউ মেক্সিকো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডায়ানা ড্রাগোমির জানান, টেস স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণের সময় বিজ্ঞানীরা ভাবেননি যে এটি কখনও এ ধরনের গ্রহ খুঁজে পাবে। নতুন গ্রহটির ভর বৃহস্পতি গ্রহের চেয়ে ১ দশমিক ৬ গুণ বেশি এবং এর কক্ষপথের দূরত্বও প্রায় একই রকম। এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে স্যাটেলাইটের পুরোনো তথ্যের মধ্যে আরও অনেক মাইক্রোলেনসিং গ্রহ লুকিয়ে থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির গায়া স্পেস টেলিস্কোপ প্রথম এই গ্রহের অস্তিত্বের ইঙ্গিত দিয়েছিল। সে সময় গায়া টেলিস্কোপের অ্যালার্ট সিস্টেমে একটি নক্ষত্রকে হঠাৎ অতিরিক্ত উজ্জ্বল হয়ে উঠতে দেখা যায়। মহাকাশে যখন একটি নক্ষত্র অন্য দূরবর্তী নক্ষত্রের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় নিজস্ব মহাকর্ষ বলয়ের কারণে পেছনের নক্ষত্রের আলোকে বিবর্ধিত করে, তখন বিজ্ঞানের ভাষায় তাকে ‘গ্র্যাভিটেশনাল মাইক্রোলেনসিং’ বলা হয়। পরবর্তীতে গবেষকরা টেস স্যাটেলাইটের পুরোনো আর্কাইভ বিশ্লেষণ করে দেখতে পান যে টেস স্যাটেলাইটও একই ঘটনা রেকর্ড করে রেখেছিল।
গবেষণায় দেখা গেছে, ‘গায়া২৩ব্রা বি’ নামের এই নতুন গ্রহটি একটি কমলা রঙের বামন নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। উক্ত নক্ষত্রের ভর আমাদের সূর্যের ভরের প্রায় ৮০ শতাংশ। গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। যেখানে টেস স্যাটেলাইট সাধারণত পৃথিবীর কাছাকাছি মাত্র ১৫০ আলোকবর্ষের মধ্যে অনুসন্ধান চালায়, সে তুলনায় এই গ্রহের দূরত্ব অনেক বেশি বলে জানান গবেষকেরা।
টিএইচএ/
