চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ইলশা গ্রামে টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও সমুদ্রের অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে এক দিনমজুর পরিবারের সবকিছু। মাটির ঘর ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ার পর অবশেষে দীর্ঘ তিনদিন অতিবাহিত হওয়ার পর খিচুড়ি জোটে আট বছর বয়সী এতিম শিশু কায়সারের পাতিলে। শনিবার দুপুরে ইলশা গ্রামে কায়সারের হাতে এক পাতিল খাবার পাওয়ার করুণ দৃশ্যটি পথচারী ও স্থানীয়দের নজরে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্রের জোয়ার ও ঢলের তোড়ে মাটির ঘরটি সম্পূর্ণ ভেঙে গেলে বাঁশ ও পলিথিন দিয়ে কোনোমতে একটি অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘর তৈরি করেন কায়সারের মা কুলসুমা (২৭)। চার বছর বয়সী ছোট বোন রিয়া মনিকে নিয়ে সেটিতেই কোনোভাবে আশ্রয় নিয়েছেন তারা। এক বছর আগে বাবা মারা যাওয়ার পর কায়সারের মা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালাতেন। কায়সারও মাঝেমধ্যে ছোটখাটো কাজ করে মায়ের সংসারে একটু সহযোগিতার চেষ্টা করত। তবে সাম্প্রতিক বন্যায় তাদের ঘরের হাঁড়ি-পাতিল ও চাল-ডালসহ সব আসবাবপত্র তলিয়ে যায়।
বন্যার পানিতে ভিজে টানা দুদিন শুকনো খাবার খেয়ে কোনোমতে দিন কাটায় পুরো পরিবারটি। তৃতীয় দিনে এসে ছোট বোন রিয়া মনি ভাতের জন্য একনাগাড়ে কাঁদতে শুরু করলে স্থির থাকতে পারেনি কায়সার। ছোট বোনের মুখে খাবার তুলে দিতে সে ঘরের একটি খালি পাতিল হাতে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে পড়ে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্ষুধার্ত কায়সার রাস্তার ধারে অলৌকিক কোনো সাহায্যের আশায় বসে অপেক্ষা করতে থাকে।
দুপুরের দিকে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণের উদ্দেশ্যে রান্না করা গরম খিচুড়ি নিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবী যুবদল সেই সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। সুযোগ পেয়ে হাত বাড়িয়ে দেয় ছোট্ট কায়সার। মুহূর্তেই তার খালি পাতিলটি খিচুড়িতে পূর্ণ করে দেন ত্রাণকর্মীরা। বোনের জন্য কায়সারের এই খাবার জোগাড়ের গল্প স্থানীয় মানুষ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় এভাবে শত শত পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।
টিএইচএ/
