নিজস্ব প্রতিবেদক :: যমুনায় বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়েছে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। মানিকগঞ্জের শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার যমুনা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী একটি চক্রের ছত্রচ্ছায়ায় এবং সশস্ত্র পাহারার মধ্যেই প্রকাশ্যে চলছে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড, আর সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা না থাকায় দিন দিন ভয়াবহ আকার নিচ্ছে নদীভাঙন।
বুধবার (১৫ জুলাই) আলোকদিয়া চরসংলগ্ন বাঘুটিয়া বাজারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে স্থানীয়রা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন রোধ এবং অভিযুক্ত বালু উত্তোলনকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ ৯ দফা দাবি উত্থাপন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, শিবালয় উপজেলার আলোকদিয়া চর এলাকায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারসংলগ্ন যমুনা নদীতে প্রায় ১০টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, অভিযোগে অভিযুক্ত চক্রটি সশস্ত্র পাহারার মাধ্যমে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করছে, ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানাতেও আতঙ্কে রয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অব্যাহত ড্রেজিংয়ের কারণে যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে বসতবাড়ি, আবাদি জমি, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর অভিযোগ, জেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান।
মানববন্ধন থেকে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, সকল অবৈধ ড্রেজার জব্দ, অভিযোগে জড়িত বালু উত্তোলনকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনা, অভিযোগ অনুযায়ী সশস্ত্র পাহারাদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, এখনই কার্যকর অভিযান পরিচালনা না করলে যমুনার ভয়াবহ নদীভাঙন আরও তীব্র হবে। এতে শুধু জনপদ নয়, জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই জনস্বার্থ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় অবিলম্বে যৌথ অভিযান পরিচালনার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার বক্তব্য জানতে তার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী সরকারি অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলন, পরিবেশ ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ দণ্ডনীয় অপরাধ। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
