চিফ রিপোর্টার:: বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার (বিএমকেএস) বিদ্যমান অ্যাডহক কমিটি বিলুপ্ত করে ২৯ সদস্যের নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে সরকার। নতুন এই কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও ক্রীড়া সংগঠক ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লাকে। তবে এই নিয়োগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও রাজনৈতিক বিতর্ক।
শনিবার (১৮ জুলাই) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খাঁন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই নতুন কমিটির কথা জানানো হয়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারা ও চেয়ারম্যানের অনুমোদনে গঠিত এই কমিটিকে আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন এই কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক ডা. ইসমত আরা হায়দার, আয়েশা সিদ্দিকা মানি, অতিরিক্ত ডিআইজি আতিয়া হুসনা, মির্জা ফারজানা রহমান হোসনা এবং অ্যাডভোকেট রুনা লায়লা। এ ছাড়া জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত শুটার শারমিন আক্তার রত্নাকে সাধারণ সম্পাদক, শুটার সাবরিনা সুলতানা ও সৈয়দা তাসলিমা আক্তারকে যুগ্ম সম্পাদক এবং সাবেক খেলোয়াড় শক্তি রানী মণ্ডলকে কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে ঠাঁই পেয়েছেন কামরুন নাহার হিরু, ফরহাদ জেসমিন লিটি, পারভীন লায়লা লুসিসহ দেশের বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা।
নিয়োগ ঘিরে নেটিজেন ও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক
নতুন কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নারী ক্রীড়ার উন্নয়নে দৃশ্যমান, ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আনতে নতুন অ্যাডহক কমিটি সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে। তবে তার এই নিয়োগের পরপরই প্রবাসী বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক গবেষক-লেখক পিনাকী ভট্টাচার্য ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে তুমুল বিতর্কের জন্ম দেন।
পিনাকী ভট্টাচার্য তাঁর পোস্টে দাবি করেন, সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান সিরাজের মেয়ে সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ‘ডামি নির্বাচনে’ অংশ নিয়েছিলেন। বিএনপি সেই নির্বাচন বর্জন করলেও দলটির সমর্থনে গঠিত এই নতুন কমিটিতে তাঁকে পুরস্কৃত করায় প্রশ্ন তোলেন তিনি। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বিএনপিতে কি ডেডিকেটেড নারী রাজনৈতিক নেতা-কর্মী কম পড়সে? সেই ইলেকশনে অংশ নিয়া হাসিনা রেজিমকে বৈধতা দেয়া একজন মানুষকে বিএনপি কীভাবে পুরষ্কৃত করে?’
এই পোস্টের পর সাধারণ নেটিজেনদের মন্তব্য ঘরেও মিশ্র ও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মীর আহমেদ ফরিদ নামের একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “যা আম্লীগ তাই তো বিম্পী। এক মুদ্রার এই পিঠ আর ঐ পিঠ।’ আলতাফ মাহমুদ ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘বিএনপি এভাবেই ক্ষমতা হারাবে। এগুলো শুনলে দুঃখ লাগে।” তারিক সালাহউদ্দিন প্রশ্ন তোলেন, ‘বিএনপি টা আসলে চালায় কে?’
তবে এই সমালোচনার বিপরীতে ভিন্ন যুক্তিও তুলে ধরেছেন অনেকে। মোহাম্মদ কামরুজ্জামান নামের এক ব্যবহারকারী শুক্লা সিরাজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে লেখেন, “জনাবা শুক্লা সিরাজের উল্লেখিত ইলেকশনে অংশগ্রহণ ছিল, মনোনীত আওয়ামী লীগ ও বিশাল আকৃতির স্বতন্ত্র আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে একটি ভিন্ন চিন্তার বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত!”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শাহজাহান সিরাজ ও তাঁর পরিবার মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীকালে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রে অবদান রেখেছেন। এই নিয়োগকে রাজনৈতিক চাদরে না ঢেকে, সংস্থার উন্নয়নের একটি বিশেষ ‘ম্যানেজমেন্ট কৌশল’ হিসেবে দেখাই শ্রেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
