সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

by hsnalmahmud@gmail.com

দেশের সব সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে জড়িত দালালদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
banner

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালচক্রের বিরুদ্ধে র‍্যাব, ডিজিএফআই ও এসবিসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম দূর করে জনগণের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

এ সময় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি হাসপাতালগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগীদের সেবা ও খাবারের মানসহ সার্বিক বিষয় নিয়মিত নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, গত এক মাসে দেশের ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন তিনি। অধিকাংশ হাসপাতালেই চিকিৎসকদের উপস্থিতি সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের অভিযোগ এবং সেবার মান সম্পর্কেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে।

হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বয়সসীমা, তথ্যের ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণে কিছু শিশু টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে যাওয়ায় তাদের মধ্যে হাম দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার মপ-আপ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে। চলতি মাসের শেষদিকে আবারও বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হবে।

সিলেটের হাওরাঞ্চলসহ ভৌগোলিকভাবে দুর্গম এলাকাগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। প্রতিটি উপজেলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ক্যাম্পেইনের আগেই কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অবৈধ ক্লিনিক, হাসপাতাল ও চিকিৎসা কার্যক্রমের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জেলা পর্যায়ে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা ও প্রতিষ্ঠান বন্ধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অনুমোদিত লেবার রুম না থাকা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হচ্ছে। অবৈধ চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান বা অননুমোদিত ব্যক্তির মাধ্যমে অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসাসেবা পরিচালনার বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতের সব সমস্যা রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাস হয়েছে। বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামোগত সমস্যা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতাসহ বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

পরিদর্শনকালে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমেদ, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির, সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন ও সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222