ইয়েমেনের হুদাইদা প্রদেশে সরকারি বাহিনীর অধীন ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের সঙ্গে দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্টি হুথিদের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) হুদাইদা প্রদেশের দক্ষিণে জাবাল দাব্বাস এলাকায় এ সংঘর্ষ শুরু হয়।
সরকারপন্থী ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্সের মুখপাত্র সংস্থা ‘২ ডিসেম্বর’ জানায়, হুথিরা জাবাল দাব্বাস এলাকার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্সের প্রথম ডিভিশনের সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্সের প্রথম ডিভিশনের ১৩তম পদাতিক ব্রিগেডের সদস্যরা হুদাইদার দক্ষিণে হুথিদের সঙ্গে লড়াই করছেন।
ইয়েমেনের সরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-আমালিকা (জায়ান্টস) বাহিনী ও দার আল-ওয়াতান বাহিনীর সদস্যরা তায়েজ ও উপকূলীয় ফ্রন্টে সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করতে ওই এলাকায় পৌঁছেছেন।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি জানিয়েছেন, তায়েজের বিভিন্ন ফ্রন্টে হুথিদের সাম্প্রতিক উত্তেজনা মোকাবিলায় সরকারি বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় সরকারি বাহিনী কোনো ধরনের ছাড় দেবে না বলেও জানান তিনি।
আল-আলিমি বলেন, হুথিদের হামলা শক্তির ভারসাম্য ও প্রতিরোধের সমীকরণ পরিবর্তন করতে পারবে না এবং এর মাধ্যমে তারা ভূখণ্ডে নতুন কোনো অর্জনও করতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, ইয়েমেনের জনগণ ও তাদের বাহিনী বিদ্রোহ দমন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধারে আগের চেয়ে আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বৃহস্পতিবার সরকারি বার্তা সংস্থা সাবা জানিয়েছিল, তায়েজের পশ্চিমাঞ্চলের মাকবানা ও আল-কাদহা ফ্রন্টে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষে প্রায় ৫০ জন হুথি সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন। এ সময় আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
গত জুলাইয়ের শুরু থেকে ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে মধ্যাঞ্চলের মারিব, উত্তরাঞ্চলের জাওফ, পাশাপাশি দালেহ ও তায়েজ।
ইয়েমেনে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এক ধরনের উত্তেজনা প্রশমন চলছিল। প্রায় ১২ বছর আগে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে যে সংঘাত শুরু হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
হুথিরা ২০১৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের বেশ কয়েকটি প্রদেশ ও শহর নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
