মিশরের ঐতিহ্যবাহী আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাদেশের প্রথম নারী গবেষক হিসেবে মুনিরা তাহের আবু তাহের এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন। আজ সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি. আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ফ্যাকাল্টি অফ ইসলামিক সাইন্স ফর ফরেইনার স্টুডেন্টস’ এর অধীনে ইমাম আহমদ আত-তাইয়্যিব মিলনায়তনে তার এমফিল থিসিস ডিসকাশন সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিনি সর্বোচ্চ ফলাফল মুমতাজ (Excellent) গ্রেডে উত্তীর্ণ হন।
তাফসির ও উলুমুল কুরআন বিষয়ে লিখিত তার গবেষণাপত্রের শিরোনাম (مِنْ حُرُوفِ الْمَعَانِي «عَسَى – عِنْدَ – كَأَنَّ» وَأَثَرُهَا فِي التَّفْسِيرِ فِي النِّصْفِ الثَّانِي مِنَ الْقُرْآنِ الْكَرِيمِ: جَمْعًا وَدِرَاسَةً) বা ‘হুরূফুল মাআনি (عسى, عند, كأنّ) এবং পবিত্র কুরআনের দ্বিতীয়ার্ধের তাফসিরে এর প্রভাব—সংকলন ও পর্যালোচনা”। দেশী-বিদেশী শিক্ষার্থী ও গবেষকদের উপস্থিতিতে দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে সম্মানিত সুপারভাইজারগণ তাকে সর্বোচ্চ ফলাফল মুমতাজ (Excellent) গ্রেডে উত্তীর্ণ ঘোষণা করেন।
আল-আযহারের হাজার বছরের ইতিহাসে সর্বপ্রথম এমফিল ডিগ্রি অর্জনকারী বাংলাদেশী গবেষক মুনিরা তাহের আবু তাহের নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় এক শিক্ষানুরাগী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মাওলানা মোহাম্মদ আবু তাহের দুর্গাপুর জামিউল উলূম কাচারি মাদরাসা ও ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা।
সম্মানিতা গবেষকের শিক্ষাজীবনের সূচনা হয় দুর্গাপুর জামিউল উলূম কাচারি মাদরাসায় হিফযুল কুরআন সম্পন্ন করার মাধ্যমে। পরবর্তীতে তিনি দুর্গাপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি সম্পন্ন করেন। উচ্চতর ইসলামী শিক্ষার উদ্দেশ্যে ২০১০ সালে মিশরে এসে মাআহাদ দিরাসা আল-খাসসাহ-এর মাধ্যমে আল-আযহার শিক্ষাজীবনের সূচনা করেন। দীর্ঘ একাডেমিক পথচলায় তিনি ২০১৮ সালে অনার্স, ২০২১ সালে দশ কিরাআত এবং ২০২২ সালে মাস্টার্স (তামহিদি) সম্পন্ন করেন। ২০২৩ সালে এমফিল গবেষণার জন্য থিসিস রেজিস্ট্রেশন করেন এবং দীর্ঘ গবেষণা ও অধ্যবসায়ের পর ২০২৬ সালে তাঁর গবেষণাকর্ম সম্পন্ন করেন। আল-আযহারে দীর্ঘদিনের অধ্যয়ন ও গবেষণার পাশাপাশি তিনি বর্তমানে মিশরের জামিয়া সুফারা আল-হিদায়া-তে কুরআন শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্বখ্যাত ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন বাংলাদেশী নারী গবেষকের সর্বোচ্চ ফলাফলে এমফিল ডিগ্রি অর্জন নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও গবেষক সমাজের জন্য আনন্দ ও গৌরবের বিষয়। তার এ অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আরও উৎসাহিত করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
সম্মানিতা গবেষকের এ অসামান্য কৃতিত্বের দরুন আযহার ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বাংলাদেশ, মিশর- এর পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। সম্মানিতা গবেষকের পক্ষ থেকে তার পুত্র মুহাম্মাদ হুজাইফা সংগঠনটির সভাপতি আবদুর রহমান মুহাম্মাদ নওয়াব ও সদস্য প্রতিনিধি আবু আদনান মহিবুর রহমানের হাত থেকে সম্মাননা গ্ৰহণ করেন এবং নিজের মায়ের হাতে তা অর্পন করেন।
আযহার ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বাংলাদেশ, মিশর তার এ অর্জনে আনন্দিত ও গর্বিত। মহান আল্লাহ তার ইলম, গবেষণা ও কর্মজীবনে আরও বরকত দান করুন এবং তাঁকে দ্বীন, দেশ ও মানবতার কল্যাণে জ্ঞান ও গবেষণার মাধ্যমে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার তাওফিক দান করুন—আমিন।
