বশির আহম্মদ মোল্লা (নরসিংদী প্রতিনিধি): নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুলকে নতুন সরকারের কৃষিমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। এই দাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার ঝড় উঠেছে। এমনকি প্রিয় নেতার এমন রাষ্ট্রীয় মূল্যায়নের জন্য অনেক নারী-পুরুষ ও সমর্থক নফল নামাজ আদায় এবং রোজা মানত করছেন বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় বিএনপির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং রায়পুরার এই সংসদ সদস্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক দৃশ্যপট আমূল বদলে গেছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রায়পুরা এলাকায় সমবণ্টন নীতি চালু, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে সর্বস্তরের মানুষের কাছে সমাদৃত হয়েছেন আশরাফ উদ্দিন বকুল। বিশেষ করে রায়পুরার চরাঞ্চলে আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে চলে আসা শত বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও দুই গ্রুপের দীর্ঘদিনের বিরোধ স্থায়ীভাবে নিরসন করায় সাধারণ মানুষের কাছে তিনি এখন ‘শান্তির দূত’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তাঁর এই নিরপেক্ষ ভূমিকার কারণে চরাঞ্চলের শত শত বাস্তুচ্যুত পরিবার আবার নিজ বাড়িতে ফিরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। এ ছাড়া বিগত ১৭ বছর দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে থেকে ব্যাপক সাহায্য-সহযোগিতা করায় এলাকায় তাঁর একটি ক্লিন ইমেজ ও দানবীর হিসেবে খ্যাতি তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, রায়পুরাকে একটি মডেল ও শান্ত জনপদে রূপান্তর করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন এই সংসদ সদস্য। দলমত নির্বিশেষে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে তিনি পুলিশ প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। এলাকার শিক্ষার হার বাড়াতে বহু স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও মসজিদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হওয়ায় স্থানীয়রা তাকে রায়পুরার উন্নয়নের দিকপাল হিসেবে দেখছেন। এদিকে, রায়পুরার চর-আঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা ও পুলিশি সেবা আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘চর-রায়পুরা’ নতুন থানার কার্যক্রম চালুর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। গতকাল বিকেলে পাড়াতলী ইউনিয়নের মধ্যনগর শাহাব উদ্দিন ভুইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনকে অস্থায়ী থানা কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের জন্য স্থান পরিদর্শন করেছেন সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বকুল।
স্থান পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য জানান, চর-রায়পুরা থানার নিজস্ব স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই অস্থায়ী ভবন থেকেই প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলার সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। উল্লেখ্য, নতুন এই চর-রায়পুরা থানার জন্য ইতিমধ্যে ১১৩ জন জনবল এবং ৬টি সরকারি যানবাহন অনুমোদন করা হয়েছে। চরাঞ্চলে নতুন থানার এই যাত্রা এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিতকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ জনগণ।
টিএইচএ/
