আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর নারকীয় বোমা হামলায় ফের একটি পুরো পরিবার চিরতরে মুছে গেছে। আজ মঙ্গলবার ভোরে গাজা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত আল-সামির এলাকার একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ হামলা চালায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। এই হামলায় একই পরিবারের বাবা-মা এবং তাদের চার শিশু সন্তানসহ মোট ৬ জন জীবন্ত পুড়ে শহীদ হয়েছেন। তাদের লাশ এতটাই জখম ও দগ্ধ হয়েছে যে উদ্ধারকর্মীরা ঘর থেকে কেবল ছাই ও পুড়ে যাওয়া দেহাংশ বের করতে সক্ষম হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর গাজা জুড়ে নতুন করে চরম শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে।
ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, আল-সামির এলাকার বাণিজ্য কেন্দ্রের পেছনের ভবনে বিমান থেকে পরপর তিনটি শক্তিশালী বোমা বর্ষণ করা হলে পুরো বাড়িটিতে মুহূর্তে আগুন ধরে যায়। স্থানটিতে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ‘আল-মাসরি’ পরিবারের সবার দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে আল-সারায়া ফিল্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সে ওই পরিবারের নিকটাত্মীয়দের বিদায় জানানোর সময় এক রোমহর্ষক ও হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের করুণ আর্তনাদ ও বুকফাটা কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলায় গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৩ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ পৌঁছেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পাশের ভবনের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মধ্যরাতে কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই অতর্কিত এই হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে পার্শ্ববর্তী ঘরবাড়িতেও আগুন ধরে যায় এবং মানুষজন জীবন বাঁচাতে সন্তানসহ কোনোমতে বাড়ি ছেড়ে পালান। ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আহমদ কাহিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করে লেখেন, বিশ্ববাসীর চোখের সামনে আমাদের অবোধ শিশুরা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে আর সবাই ঘুমিয়ে আছে। ফিলিস্তিনি মানবাধিকারকর্মীরা এই নির্মম ঘটনাকে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন হামলা নয়, বরং ফিলিস্তিনি জাতি ও পরিবারগুলোকে পদ্ধতিগতভাবে নিশ্চিহ্ন করার ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
টিএইচএ/
