আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতজুড়ে চলমান তীব্র মৌসুমী বর্ষণের জেরে সৃষ্ট প্রলয়ঙ্করী হড়কা বান (আকস্মিক বন্যা) এবং একের পর এক ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে বিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে আটকা পড়াদের উদ্ধারে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা করছে দেশটির সেনাবাহিনী ও জরুরি উদ্ধারকারী দল। রোববার (১৯ জুলাই) ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যা ও ভূমিধসে মিয়ানমার সীমান্ত লাগোয়া ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য নাগাল্যান্ডে আটজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ভারত-শাসিত বিতর্কিত জম্মু ও কাশ্মিরে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ১১ জন। নাগাল্যান্ডের মোন জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওয়েনইয়ি কোনিয়াক এএফপিকে টেলিফোনে জানিয়েছেন, “নিহত আটজনের মধ্যে এ পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ এখনও চলছে।” তিনি আরও জানান, এই মৌসুমী দুর্যোগে নাগাল্যান্ডে আরও অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এদিকে জম্মু ও কাশ্মিরের রাজৌরি জেলাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এক শোক বিবৃতিতে রাজৌরি এলাকায় আকস্মিক বন্যায় হতাহতের ঘটনায় গভীর দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই বন্যায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার মধ্যে বাসস্ট্যান্ডসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে। দেশটির প্রভাবশালী টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভি জানিয়েছে, জম্মু অঞ্চলে অন্তত ১১ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সেনাসদস্য ও জরুরি সেবা বিভাগের কর্মীরা জীবনবাজি রেখে জম্মুর রাজৌরি জেলায় পাঁচ শিশুসহ অন্তত ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) এক জরুরি সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, আগামী দু’দিনে জম্মু ও কাশ্মিরে আরও অতি ভারী থেকে অতি বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। উদ্ভূত এই চরম দুর্যোগময় পরিস্থিতির কারণে কাশ্মিরের ঐতিহ্যবাহী বার্ষিক হিন্দু তীর্থযাত্রা ‘অমরনাথ যাত্রা’ সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। নিখোঁজদের উদ্ধার এবং দুর্গতদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়াই এখন প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টিএইচএ/
