ইকরা আঙিনায় ফল উৎসবে প্রকৃতির ভিন্ন পাঠ

আবদুর রউফ আশরাফ 

by Masudul Kadir

ব্যস্ত যান্ত্রিক জীবনে শিশুরা যখন ইট-পাথরের দেয়ালে বন্দি, তখন বুকভরে একটু প্রকৃতির ঘ্রাণ নেওয়া আর মাটির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। গতকাল, ১৩ জুলাই, ২০২৬ ইং, সোমবার এমনই এক দারুণ ও প্রাণবন্ত আয়োজনের সাক্ষী হয়েছিল ইকরা। সেখানে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক বর্ণিল ‘ফল উৎসব’।

শিক্ষার্থীদের কলকাকলি, নানান রঙের ফলের সমাহার আর অভিভাবকদের প্রাণখোলা হাসিতে পুরো প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণ যেন রূপ নিয়েছিল একটি উৎসবের নগরীতে।

বিজ্ঞাপন
banner

ফল উৎসবের সকালটা অন্য আটপৌরে সকালের মতো ছিল না। ক্লাসের চেনা বই-খাতার চেয়েও শিক্ষার্থীদের চোখ জুড়িয়েছে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, লটকন, জামরুল আর আনারসের মতো দেশি-বিদেশি ফলের সমারোহে। শুধু ফল খাওয়া নয়, বরং নানা জাতের ফলের সাথে পরিচিত হওয়া, সেগুলোর পুষ্টিগুণ জানা এবং সহপাঠীদের সাথে ভাগ করে নেওয়ার আনন্দই ছিল এই উৎসবের মূল আকর্ষণ।

ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে ছিল এক অদ্ভুত আবিষ্কারের আনন্দ। কেউ হয়তো প্রথমবারের মতো দেখছে অনেক অদেখা, অজানা ফলমূল, আবার কেউ সহপাঠীকে নিজ হাতে খাইয়ে দিচ্ছে পাকা আমের কোয়া। তাদের এই অনাবিল উৎফুল্লতা পুরো পরিবেশকে এক চিলতে সতেজতা এনে দিয়েছিল।

অভিভাবকদের মুখে আনন্দের হাসি ছিল অনন্য। সন্তানদের এমন আনন্দঘন মুহূর্তে পাশে থাকতে পেরে অভিভাবকরাও ছিলেন দারুণ উৎফুল্ল। এক অভিভাবক অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, আজকের যান্ত্রিক যুগে বাচ্চারা ফাস্টফুড আর স্ক্রিন-টাইমে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। সেখানে ইকরার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। বাচ্চারা আমাদের দেশীয় ফলমূলের সাথে পরিচিত হতে পারছে এবং আনন্দের মাধ্যমে শিখছে। অভিভাবকদের জন্যও এটি এক অন্যরকম মিলনমেলা।

শিক্ষার সাথে সংস্কৃতির এবং প্রকৃতির এই মেলবন্ধন প্রতিটি অভিভাবকের বুকেই আনন্দের দোলা দিয়ে গেছে। তারা শুধু দর্শক ছিলেন না, বরং উৎসবের অন্যতম প্রাণশক্তি হয়ে উঠেছিলেন।

কেন প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন আয়োজন জরুরি : ইকরা হবিগঞ্জের এই ফল উৎসব কেবল একদিনের কোনো আনন্দ আয়োজন নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর শিক্ষণীয় দিক। আর এ কারণেই দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন উৎসবের আয়োজন করা উচিত। কেন করা উচিত, তা দেখে নেওয়া যাক-

ক. দেশীয় সংস্কৃতির সাথে পরিচয়: নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের ঐতিহ্যবাহী ও বিলুপ্তপ্রায় দেশি ফলগুলোকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার এর চেয়ে ভালো উপায় আর হতে পারে না।

খ. পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সচেতনতা: কৃত্রিম কোমল পানীয় বা জাঙ্ক ফুডের ভিড়ে ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে শিশুরা বাস্তব ধারণা লাভ করে।

গ. সামাজিকীকরণ ও ভাগাভাগির শিক্ষা: একসঙ্গে বসে ফল খাওয়া এবং আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে সহমর্মিতা ও দলগত কাজের মানসিকতা তৈরি হয়।

ঘ. একঘেয়েমি দূরীকরণ: দৈনন্দিন পড়াশোনার কঠোর রুটিন থেকে বেরিয়ে এমন উৎসব শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও রিফ্রেশমেন্টে দারুণ ভূমিকা রাখে।

ইকরা ফল উৎসবে যে আনন্দ ও শিক্ষার বীজ বপন করেছে, তা প্রতিটি শিশুর মনে দীর্ঘদিন সতেজ থাকবে। বইয়ের পাতার বিদ্যা যখন এমন উৎসবের মধ্য দিয়ে বাস্তব রূপ নেয়, তখনই শিক্ষা পূর্ণতা পায়।

ইকরার মতো দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি এমন সৃজনশীল ও মননশীল উৎসবের উদ্যোগ নেয়, তবে আমাদের সন্তানরা শুধু জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী হবে না, বরং তারা হয়ে উঠবে প্রকৃতিপ্রেমী এবং শেকড়-সন্ধানী একেকজন খাঁটি মানুষ। উৎসবের এই রঙ ছড়িয়ে পড়ুক বাংলার প্রতিটি বিদ্যাপীঠে। পাড়ায় পাড়ায় এবং প্রতিটি ঘরে ঘরে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222