চিফ রিপোর্টার:: চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট সমাজ গবেষক, লেখক ও আলেম মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই চলমান পরিস্থিতিকে সরকারের জন্য একটি বড় ‘সংকট ও ঝামেলা’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং এটি সমাধানে আন্তরিকতা ও বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।
একই দিন জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন এবং তাদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
‘শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে পদত্যাগ নজিরবিহীন সংকট তৈরি করবে’
মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ তাঁর ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তাঁর মাঠপর্যায়ের অতিরিক্ত সক্রিয়তা ও বক্তব্য হয়তো কিছুটা জটিলতা তৈরি করেছে। তিনি লেখেন, ‘মিলন সাহেব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে নড়াচড়া এবং কথা আরেকটু কম বললে ভালো হতো। তিনি হয়তো ফিল্ডে নেমে ছাত্র-শিক্ষকদের সঙ্গে একটু বেশি একটিভ ও ইজি হতে চেয়েছিলেন। ঝামেলায় পড়ে গেলেন।’
বৃষ্টি ও বন্যার মধ্যে পরীক্ষা হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের যে কষ্ট হয়েছে, তা স্বীকার করে নিয়ে তিনি বলেন, রাজপথ আটকে মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা এবং সেই চাপে সরকার নতি স্বীকার করলে তা ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হবে। তাঁর মতে, “বাচ্চাদের চাপের মুখে সরকারের শুরুকালেই পদত্যাগে চলে গেলে দুই দিন পর পর পদত্যাগ দাবির সিরিয়াল আটকানো যাবে না।” এর ফলে মরিয়া দাবি-দাওয়ার এক অন্তহীন ধারাবাহিকতা তৈরি হতে পারে, যা ঠেকানো সরকারের জন্য মুশকিল হবে।
সমাধানের পথ: আন্তরিকতা ও কৌশল
এই দুমুখী সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে আন্তরিকতা, কৌশল ও বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন এই সমাজ গবেষক। তিনি পরামর্শ দেন, দুর্যোগকালে পরীক্ষা গ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ সময়ে এ জাতীয় সংকটে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মন্তব্য ও পরামর্শ নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে চলমান আন্দোলন থামাতে এই মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের বাস্তব ও যৌক্তিক দু-একটি দাবি মেনে নেওয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন।
সংসদে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী
এদিকে আজই জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও পরীক্ষা নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির জবাব দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ‘বৃষ্টি হবে না’ এমন পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করেই পরীক্ষা চালু রাখা হয়েছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের যেকোনো ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
পদার্থবিজ্ঞানের ভুল প্রশ্নে পরীক্ষার্থীদের ‘পূর্ণ নম্বর’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী সংসদে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যার যার পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, তাদের চেয়ে আমরাই উদ্বিগ্ন। কীভাবে তাদের পরীক্ষা সঠিকভাবে নেবো, এই দুর্যোগ মোকাবিলা করবো, তা নিয়ে আমরা কন্টিনিউয়াস মনিটরিং করছি।’
তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, দুর্যোগের কারণে যেসব কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারেনি, প্রশাসনের জরিপ হাতে পাওয়ার পর সেখানে প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষা (রি-এক্সামিন) নেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে।
