আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: কথা না শুনলে বোমা হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হয়তো কথা রাখো না হলে হামলা। ইঁদুর বিড়াল যুদ্ধ চলছে। ইরান আলোচনায় না ফিরলে আগামী সপ্তাহে দেশটির সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে -এমন হুমকি দিয়ে রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী সপ্তাহটি তাদের জন্য সত্যিই খুব খারাপ হবে। আমরা তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেব। তারা আলোচনার টেবিলে না এলে তাদের সব সেতুও ধ্বংস করে দেব।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমরা তাদের খুব, খুব কঠিনভাবে আঘাত করছি। সাগরতীরে এবং সাগরে তাদের যত সামরিক স্থাপনা আছে, প্রতিটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। আমি যতক্ষণ পর্যন্ত না থামাব, ততক্ষণ পর্যন্ত এটা চলতেই থাকবে। আজ রাতে আমরা তাদের খুব কঠিন আঘাত করতে যাচ্ছি। আগামীকাল এবং তার পরের দিনও তা অব্যাহত থাকবে।’
আলোচনা ছাড়া ইরানের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই দাবি করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমাদের প্রতিনিধিদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। তারা চুক্তি করতে চায়; কারণ তারা ভালোভাবেই বুঝতে পারছে যে চুক্তিস্বাক্ষর না করলে তাদের কেউই আর অবশিষ্ট থাকবে না।’
প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত ১৭ জুনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি ভেস্তে গেছে। এর ফলে টানা চতুর্থ দিনের মতো পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকি এলো।
এর আগে, গত এপ্রিলেও ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার হুমকি দিয়েছিলেন।
এদিকে ট্রাম্পের এই হুমকির তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ফলকার তুর্ক সতর্ক করেছেন, ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক যোগাযোগ ও জীবনযাত্রার জন্য অপরিহার্য বিদ্যুৎকেন্দ্র বা সেতুর মতো অবকাঠামোতে ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালানো স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি
