আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক বিধ্বংসী ও ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই নজিরবিহীন হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার সকালে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চম নৌবহর (ফিফথ ফ্লিট) এবং জর্ডানের বিমানঘাঁটিগুলোতে এই হামলা চালায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
আইআরজিসি এই হামলাকে ‘দমনপীড়নমূলক’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি ‘ক্রাশিং রেসপন্স’ বা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়ার মতো দাঁতভাঙা জবাব হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে এই হামলার বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বা জর্ডান প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
বাহরাইন ও জর্ডানের ঘাঁটিতে ইরানের বড় দাবি
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, বুধবার সকালে বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে চালানো হামলায় নিচের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়েছে:
-
প্রধান কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার (কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র)
-
নেভাল সাপোর্ট ম্যানেজমেন্ট সেন্টার (নৌ সহায়তা ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র)
-
বিশাল সামরিক গুদাম ও জ্বালানি ট্যাংকসমূহ
পাশাপাশি জর্ডানের আল-আজরাক ও মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে মার্কিন স্থাপনা, যুদ্ধবিমান, সেনাদের আবাসন ভবন এবং হ্যাংগার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। আইআরজিসি তাদের বিশেষ সামরিক অভিযান ‘নাসর ২’-এর ষষ্ঠ পর্বের অংশ হিসেবে এই হামলা চালায়। এতে জর্ডানের আজরাক ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন এফ-১৫, এফ-১৬ ও অত্যাধুনিক এফ-৩৫ ফাইটার জেটের একাধিক আশ্রয়স্থল এবং মোতায়েনকৃত বেশ কয়েকটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করেছে তারা।
এছাড়াও আলজাজিরা ও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি-এর তথ্যমতে, ‘সায়েকেহ’ অভিযানের অষ্টম ধাপের অংশ হিসেবে জর্ডানের বিমানঘাঁটিগুলোতে মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
জর্ডানের জনগণের প্রতি ইরানের আহ্বান
এই ধারাবাহিক হামলার পর আইআরজিসি মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ জনগণের প্রতি সরাসরি বার্তা পাঠিয়েছে। জর্ডানের জনগণের উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে তারা আহ্বান জানায় যেন জর্ডানের পবিত্র ভূমিকে অন্য কোনো মুসলিম দেশের ওপর হামলার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে মার্কিন বাহিনীকে ব্যবহার করতে দেওয়া না হয়। জর্ডানের নাগরিকদের প্রতি তারা মার্কিন সেনাদের বহিষ্কার এবং সে দেশে থাকা আমেরিকার সমস্ত স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে প্রতিটি সুযোগের সদ্ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছে।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সেন্টকমের নৌ অবরোধ
ইরানের এই ভয়াবহ হামলার জবাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানে নতুন দফায় বিমান হামলার ঘোষণা দিয়েছে। সেন্টকমের দাবি, তাদের এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা পুরোপুরি দুর্বল করা। একই সঙ্গে মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় মার্কিন নৌ অবরোধ পুনরায় কার্যকর করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সংঘাত প্রশমন ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও বাস্তবে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের আশঙ্কা প্রকট হয়ে উঠছে।
টিএইচএ/
