নরসিংদীতে দুই মাস বয়সী এক শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার যে হৃদয়বিদারক ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার। পারিবারিক কলহের জেরে শিশুর পায়ে মোচড় দেওয়ার একটি সাধারণ ভিডিওকে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে এডিট করে অতিরঞ্জিত ও বিকৃত আকারে ভাইরাল করা হয়। পুলিশ সরেজমিনে তদন্ত করে জানিয়েছে, শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে এবং তার পা ভাঙার তথ্যটি সম্পূর্ণ গুজব।
গত ১১ জুন নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকাদি এলাকায় মূল ঘটনাটি ঘটেছিল।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পাইকাদি এলাকার জহিরুল মিয়া ও সায়মা আক্তার দম্পতির দুই মাস বয়সী সন্তান রিজিক জন্মের পর থেকেই কিছুটা অসুস্থ ছিল। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে শিশুটির চিকিৎসা চলায় সায়মার জা (স্বামীর ভাইয়ের স্ত্রী) লতা বেগমকে ঘরের যাবতীয় কাজকর্ম একাই সামলাতে হতো। গৃহস্থালি কাজের অতিরিক্ত চাপ নিয়ে পারিবারিকভাবে তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। এরই জেরে গত ১১ জুন লতা বেগম ক্ষুব্ধ হয়ে শিশু রিজিকের পায়ে মোচড় দেন, যা সায়মা আক্তার তার মোবাইল ফোনে ধারণ করেন।
পরবর্তীতে সেই ঘরোয়া ভিডিওটিকেই এআই প্রযুক্তির সাহায্যে এডিট বা রূপান্তর করে ইন্টারনেটে রটানো হয় যে শিশুটির পা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এমন সংবেদনশীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হলে দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ভিডিওটি নজরে আসার পর গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মাধবদী থানা-পুলিশ সরাসরি ওই পরিবারটির বাড়িতে গিয়ে নিবিড় তদন্ত চালায়। তবে সেখানে গিয়ে শিশুটির পা ভাঙা বা শরীরে কোনো ধরনের শারীরিক আঘাতের আলামত পায়নি পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটির বাবা জহিরুল মিয়া ও মা সায়মা আক্তার স্পষ্ট করেন যে, ইন্টারনেটে ছড়ানো ভিডিওটি এআই দিয়ে বিশেষভাবে এডিট করা হয়েছে। তাদের সন্তানের পা ভাঙেনি এবং শরীরে কোনো ধরনের ব্যান্ডেজ বা প্লাস্টারও করা হয়নি। পারিবারিক ভুল বোঝাবুঝি থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটলেও পরবর্তীতে লতা বেগমের বাবা এসে নিজে মেয়েকে শাসন করেন এবং পারিবারিকভাবেই বিষয়টি সমাধান করে নেওয়া হয়। ফলে এ ঘটনায় পুলিশের কাছে তাদের কোনো অভিযোগ নেই।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিবারটির সদস্যরা যৌথভাবে বসবাস ও ব্যবসা করেন। গৃহস্থালি কাজের চাপ নিয়ে পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে ধারণ করা দৃশ্যটিই এআই দিয়ে সম্পাদনা করে কুরুচিপূর্ণ গুজব ছড়ানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেছে শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক আছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এই মুহূর্তে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
টিএইচএ/
