মো. রেজওয়ান (রাবি প্রতিনিধি): সারাদেশে বন্যাকালীন পরিস্থিতিতে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা এবং বান্দরবান ও চট্টগ্রামসহ সব দুর্গত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিতের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা।
আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট’-এর ব্যানারে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ‘পানি নিষ্কাশন পথ রুখবে যারা, গণশত্রু তারা’, ‘জনগণ ভাসে বন্যার জলে, প্রশাসন ঘুমায় এসির তলে’ এবং ‘ত্রান নিয়ে নাটক বন্ধ করো, স্থায়ী সমাধান চাই’ লেখা সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট রাবি শাখার আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, দেশের ১৭টি জেলার লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় কুমিল্লা ও সিলেটসহ বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষার্থীদের হাঁটু বা কোমর পানি ভেঙে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অবিলম্বে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিতের পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানান তিনি। এ সময় তিনি শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক নানা মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন।
ছাত্র ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ কায়সার আহমেদ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, বন্যায় বহু পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ না করে পরীক্ষা চাপিয়ে দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। অতিদ্রুত পরীক্ষা নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না আসলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগের আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সমাবেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, ছাত্র গণমঞ্চসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বক্তব্য দেন এবং ঢাকাসহ সারাদেশে আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।
টিএইচএ/
