৩৬নিউজ ডেস্ক: টানা বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে খুলনা জেলার মৎস্য খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। এতে প্লাবিত হয়েছে ১৫২টি পুকুর-দিঘি ও ৬৫০টি মৎস্যঘের। পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে প্রায় ৭০২ দশমিক ৭৮ টন মাছ, ২৭৯ লাখ পোনা এবং বিপুল পরিমাণ পোস্ট লার্ভা (পিএল)।
জেলা মৎস্য অফিসের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কেবল দিঘলিয়া ও রূপসা উপজেলাতেই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি ১৭ লাখ ২৭ হাজার টাকা, যার মধ্যে সিংহভাগ ক্ষতিই হয়েছে দিঘলিয়ায়।
উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে দিঘলিয়ার চারটি ইউনিয়নেই ক্ষতি হয়েছে ২ কোটি ১৬ লাখ ১০ হাজার টাকার মাছ ও অবকাঠামো। সেখানে ভেসে গেছে ৭০২ মেট্রিক টন ফিনফিশ ও কোটি টাকার পোনা। অপরদিকে রূপসা উপজেলার একটি ইউনিয়নের ১২টি পুকুর প্লাবিত হয়ে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকার মতো ক্ষতি হলেও জেলাটির অন্যান্য উপজেলায় মৎস্য খাতে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত কোনো জেলে হতাহত কিংবা ট্রলার ও জাল ক্ষতির তথ্য মেলেনি।
মাঠপর্যায়ের ঘের ব্যবসায়ীরা জানান, অতিবৃষ্টিতে ঘেরের বাঁধ ভেঙে একদিকে যেমন মাছ ভেসে গেছে, অন্যদিকে বাইরের কাদাপানি ঢুকে পানির রাসায়নিক মান নষ্ট হয়েছে। অনেকেই লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কায় ভুগছেন। ক্ষতি সামলে উঠতে তারা সরকারের কাছে দ্রুত আর্থিক সহায়তা, বাঁধ মেরামত এবং কম সুদে ঋণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও পরামর্শ প্রদানে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন। খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান জানান, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিএফআরআই ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিশেষজ্ঞরা জানান, অতিবৃষ্টিতে পানির পিএইচ ও অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। তাই এ সময় পুকুর ও ঘেরের চারপাশে ঘন জালের বেষ্টনী দেওয়া, খাবার দেওয়া কমিয়ে দেওয়া এবং চুন প্রয়োগের মতো বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
টিএইচএ/
