বিশেষ প্রতিবেদক
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের (ইফা) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ও তদারকি কাঠামো ‘বোর্ড অব গভর্নর্স’ পুনর্গঠন করেছে সরকার। মঙ্গলবারের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি জানা গেছে। পুনর্গঠিত এই বোর্ডে আলেমসমাজ ও কওমি অঙ্গনের পরিচিত ৩ জন আলেম নতুন গভর্নর হিসেবে যুক্ত হয়েছেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন আইন, ১৯৮৩-এর ৬(১) ধারা অনুযায়ী ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংস্থা-১ শাখা থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পদাধিকারবলে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বোর্ড অব গভর্নরসের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। পদাধিকারবলে অন্য যাদের গভর্নর করা হয়েছে, তারা হলেন—বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক। এর মধ্যে মহাপরিচালক বোর্ডের সদস্য-সচিবের দায়িত্বও সামলাবেন।
এ ছাড়া সরকার মনোনীত দুই সংসদ সদস্য নতুন বোর্ডে ঠাঁই পেয়েছেন। তাঁরা হলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার এবং কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।
দেশের প্রখ্যাত মুসলিম পণ্ডিত ও ধর্মীয় তাত্ত্বিক কোটায় বোর্ডে স্থান পাওয়া ৫ জন আলেমের মধ্যে ৩ জন নতুন মুখ। নতুন তিন গভর্নর হলেন—
মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী: জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার মুহতামিম ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব।
মুফতি আজহারুল ইসলাম: মারকাজুল হুদা আল-ইসলামী বাংলাদেশের মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব।
মুফতি শরীফ উল্লাহ: নূরে মদিনা আল-আরাবিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল, যাত্রাবাড়ীর বাইতুল মামুর জামে মসজিদের খতিব ও সম্মিলিত ইমাম-খতিব পরিষদের মহাসচিব।
বোর্ডের আগের সদস্যদের মধ্যে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক এবং চরমোনাই আহসানাবাদ রশীদিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মো. মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বহাল রয়েছেন।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, পদাধিকারবলে নিযুক্ত সদস্যরা ছাড়া অন্যান্য গভর্নরদের মেয়াদ প্রজ্ঞাপন জারির দিন থেকে ৩ বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। তবে মেয়াদ শেষ হলেও নতুন গভর্নর মনোনীত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা পদে বহাল থাকবেন। এ ছাড়া সরকার চাইলে যেকোনো সময় (পদাধিকারবলে নিযুক্ত ব্যতীত) যেকোনো গভর্নরের পদ পরিবর্তন বা শূন্য ঘোষণা করতে পারবে।
